জেলা প্রতিনিধি
৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার গোপালপুর মডেল কলেজে অধ্যক্ষসহ শিক্ষক রয়েছেন মাত্র তিনজন। অথচ কলেজটি থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল মাত্র একজন শিক্ষার্থী। সেই একমাত্র শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য।
শুধু গোপালপুর মডেল কলেজই নয়, নেত্রকোনা জেলায় এবার পাঁচটি কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে। পাঁচটি কলেজের সব কটিই নন-এমপিওভুক্ত।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।
২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত গোপালপুর মডেল কলেজটি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। কলেজটির অধ্যক্ষ সুজিত কান্তি কর বলেন, একমাত্র পরীক্ষার্থী গত বছরও এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল। এবার শুধু ওই বিষয়েই পরীক্ষা দিয়েছিল। কিন্তু এবারও পাস করতে পারেনি।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কলেজটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় কোনো শিক্ষক এখানে থাকতে চান না। এ কারণে শিক্ষার্থীসংখ্যাও কম। বর্তমানে তাঁকে নিয়ে কলেজে মোট তিনজন শিক্ষক রয়েছেন।
জেলায় শূন্য পাসের তালিকায় থাকা অন্য চারটি প্রতিষ্ঠান হলো কলমাকান্দা মহিলা কলেজ, পূর্বধলার খলিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা, এম্বিশন মডেল কলেজ এবং জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ।
জেলা শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কলমাকান্দা মহিলা কলেজ থেকে তিনজন, খলিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা থেকে চারজন, এম্বিশন মডেল কলেজ থেকে ছয়জন এবং জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ থেকে ১৬ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
এবার নেত্রকোনা জেলার ১০টি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৩ হাজার ৯১১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫ হাজার ৮৭৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭০ জন। জেলায় গড় পাসের হার ৪৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুনমুন জাহান লিজা বলেন, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিয়ে দ্রুত আলোচনা করা হবে। শিক্ষার্থীরা কেন অকৃতকার্য হয়েছে, তা অনুসন্ধান করা হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিনিধি/ এজে