Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

দস্যুমুক্ত সুন্দরবনের দাবিতে শ্যামনগরে জেলে-বাওয়ালির টানা বিক্ষোভ

জেলা প্রতিনিধি

৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম

সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করা এবং জেলে-বাওয়ালিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে টানা চার দিন ধরে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বনজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। 

সর্বশেষ শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী ও কৈখালী মাদার নদীর সেতুর ওপর মানববন্ধন হয়। এতে হাজারো জেলে, বাওয়ালি ও স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন।

এর আগে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের নীলডুমুর বাজারে সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়সংলগ্ন উপকূলীয় প্রেসক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। 

এর আগের দিন ২৮ অক্টোবর গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা এলাকার বেড়িবাঁধে মানববন্ধন করেন জেলে-বাওয়ালি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

কর্মসূচিগুলোতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেন, সুন্দরবন উপকূলের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। মাছ ও কাঁকড়া আহরণ এবং বনজসম্পদ সংগ্রহ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বনদস্যুদের অপতৎপরতা, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের আতঙ্কে জেলে-বাওয়ালিরা নিরাপদে বনে যেতে পারছেন না। এতে তাদের জীবিকা ও পরিবারের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে।

বক্তারা অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধার, বনদস্যুদের আস্তানা চিহ্নিত করে অভিযান পরিচালনা, সুন্দরবনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার এবং বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। 

তারা বলেন, সাময়িক অভিযান নয়, বনদস্যুদের দমনে ধারাবাহিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

৩১ অক্টোবরের মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন রমজাননগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক শহিদুজ্জামান শহিদ। প্রধান অতিথি ছিলেন বনদস্যু নির্মূল কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের নেতা সালাউদ্দিন লিটন। 

বক্তব্য দেন- অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী শাহ-আলম, রবিউল ইসলাম লিটন, জেলে আব্দুল গণি ওরফে টাইগার গণি, শফিকুল ইসলাম এবং উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাংবাদিক আক্তার হোসেন।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া জেলে-বাওয়ালিরা নিরাপদে সুন্দরবনে যাতায়াত এবং নির্বিঘ্নে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। তাদের দাবি, বনদস্যুদের দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সুন্দরবননির্ভর উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

প্রতিনিধি/এলএ