জেলা প্রতিনিধি
৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
মুরগির খাদ্য, ওষুধ এবং বিদ্যুতের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির কারণে কুড়িগ্রাম জেলার পোল্ট্রি খামারিরা পরেছেন মহা বিপাকে। উৎপাদন খরচ হু-হু করে বাড়লেও বাজারে ডিমের দাম না বাড়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। ফলে এই খাতের সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষের জীবিকা এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।
জেলা প্রাণিসম্পদের তথ্যমতে, কুড়িগ্রাম জেলায় ২৭৫টি পোল্ট্রি খামার রয়েছে। এসব খামার থেকে দিনে প্রায় ২ লাখ ডিম উৎপাদন ও বেচাকেনা হয়। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এসব ডিম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যায়। ডিম উৎপাদন একটি লাভজনক ব্যবসা হলেও বর্তমানে খামারিরা রয়েছেন চরম উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তায়।
খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে পোল্ট্রি ফিড ও মুরগির ওষুধের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বোঝা। ফলে পোলট্রি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হাজারো মানুষ কাজ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।
জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের খেজুরের তল এলাকায় অবস্থিত মুন্সি পোলট্রি ফার্মের ম্যানেজার আব্দুর রহিম জানান, আমাদের খামারে সাড়ে ৫ হাজার মুরগি আছে। ফিড, ওষুধ, বিদ্যুৎ বিল ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন সব খরচ মিটিয়ে খামারিদের একটি ডিম উৎপাদন করতে খরচ হয় সাড়ে ৮ থেকে ৯ টাকা। অথচ বাজারে কখনো সেই ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে শুধুমাত্র ৯ টাকা থেকে সাড়ে ৯ টাকায়। ফলে বেশিরভাগ সময় লোকসানে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।

খামারের কর্মচারী একরামুল হক জানান, প্রতিদিন ডিমের বাজার ওঠানামা করে। অনেক সময় ডিমের চাহিদা কমে যায়, তখন মহাজনের সঙ্গে বিপাকে পরে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হাজারো পরিবার। মহাজন লাভ করতে না পারলে শ্রমিকরা কীভাবে বাঁচবে।
এই খামারের আরেক কর্মচারী মিলন চন্দ্র জানান, অনেক পরিশ্রম আর নিয়মের মধ্যে আমাদের কাজ করতে হয়। ভোর ৫টায় খামারে এসে খাবার ও পানি দেওয়ার পর খামারের মেঝে পরিষ্কার করি। এরপর সাড়ে ১১টার দিকে ডিম উত্তোলন করা হয়। দ্বিতীয়বার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আবারও ডিম সংগ্রহ করে স্টোরে রাখা হয়। এরপর ভ্যান আসলে ডিম নিরাপদভাবে সাজিয়ে রাখা হয়। এত পরিশ্রম সার্থক হয় কেবল ডিমের দাম বাড়লে। কিন্তু লোকসান হলে আমাদের চাকুরি নিয়ে টানাটানি পরে যায়। তখন তিনজনের জায়গায় দুজন কর্মচারী দিয়ে কাজ করা হয়। ফলে আমরাও আতঙ্কে থাকি।

কুড়িগ্রাম পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিয়াকত আলী রিটু জানান, অনেক উদ্যোক্তা খামারি পোলট্রি ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। খামারিদের বাঁচাতে হলে সরকারকে ফিড ও ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এ ছাড়াও বাণিজ্যিক বিলের পরিবর্তে কৃষি রেটে খামারিদের বিল নির্ধারণের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে খামারিদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। লাখ লাখ টাকা ব্যয় করেও পথে বসবে তারা।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কথা স্বীকার করে বলেন, সরকার ফিডের কাচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাস এবং বিদ্যুৎ বিলে ভর্তুকির কথা চিন্তা করছেন। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে খামারিরা উপকৃত হবেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত সরকারি প্রণোদনা বা বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করা না গেলে কুড়িগ্রামের সম্ভাবনাময় এই পোল্ট্রি শিল্প পড়বে চরম আশঙ্কা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে।
প্রতিনিধি/এফএ