জেলা প্রতিনিধি
৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৫ এএম
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় কারাগারে থাকা স্বামীকে ছাড়িয়ে আনার আশ্বাস দিয়ে এক নারীকে (৪৫) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পুটিজানা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হযরত আলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই নারীর করা একটি ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারী হযরত আলী মণ্ডলকে (৩৮) নামের ওই নেতাকে আসামি করা ফুলবাড়ীয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান।
মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, মারামারির একটি মামলায় ১৪ সেপ্টেম্বর ওই নারীর স্বামী গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান। এরপর স্বামীকে ছাড়িয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই নারীর বাড়িতে যাতায়াত শুরু করেন হযরত আলী। ২০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তিনি ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে তাকে কুপ্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় ওই নারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পালিয়ে যান হযরত আলী।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, স্বামীকে কারাগার থেকে ছাড়িয়ে আনার কথা বলে হযরত আলী নিয়মিত তাদের বাড়িতে আসতেন। ঘটনার দিনও তিনি কয়েকবার আসেন। স্বামীকে ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে তাকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করেছিলেন। রাজি না হওয়ায় ঘরে ঢুকে তাকে জাপটে ধরে বিছানায় ফেলে দেন।
তিনি বলেন, নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে আগে থেকেই মোবাইলের ভিডিও চালু রেখেছিলেন। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যাতে প্রমাণ থাকে, সে জন্যই ভিডিওটি করেন। পরে সেটি ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
স্বামীকে একটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে দাবি করেন ওই নারী। তিনি বলেন, স্বামীকে ছাড়িয়ে আনতে তিনি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন। পরে আইনজীবীর মাধ্যমে গত সোমবার তার স্বামীর জামিন হয়। অভিযুক্ত হযরত আলীর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তিনি। হযরত আলী হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন ওই নারী।
এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার দৃশ্য দেখা গেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। হযরত আলী পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক সাব্বির খানের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি এবং নৈতিক স্খলনজনিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে হযরত আলীকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা যুবদলের সভাপতি রিয়াজুল কবীর মামুন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দিদারুল ইসলাম খান রাজু এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বহিষ্কৃত হযরত আলীর কোনো অপকর্মের দায়ভার দল নেবে না। একই সঙ্গে যুবদলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত হযরত আলী পুটিজানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রচারও চালাচ্ছেন। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে হযরত আলীর মোবাইলে কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এমএইচআর