Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

ফার্মাসিস্টদের পাস করানোর আশ্বাসে ‘টাকা আদায়’, পরীক্ষা শেষে হট্টগোল

জেলা প্রতিনিধি

৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম

লালমনিরহাটে ড্রাগ লাইসেন্সের সি-গ্রেড ফার্মাসিস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করিয়ে দেওয়ার আশ্বাসে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি দুই হাজার ২০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির (বিসিডিএস) লালমনিরহাট শাখার সভাপতি আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে। পরীক্ষা শেষে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে টাকা ফেরত চান পরীক্ষার্থীরা। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) লালমনিরহাটের মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজে ৬৪তম সি-গ্রেড ফার্মাসিস্ট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২৭০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি দুই হাজার ২০০ টাকা করে সংগ্রহ করা হয়। বিসিডিএসের লালমনিরহাট শাখার সভাপতি আব্দুল হামিদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে তারা এই টাকা দেন। কিন্তু পরীক্ষা শেষে প্রত্যাশিত সুবিধা না পাওয়ায় টাকা ফেরত চান পরীক্ষার্থীরা। এ নিয়ে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

আদিতমারী উপজেলার পরীক্ষার্থী চন্দন জানান, পরীক্ষার আগের দিন তাদের একটি বৈঠক হয়। সেখানে আব্দুল হামিদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে পরীক্ষার্থীরা জনপ্রতি দুই হাজার ২০০ টাকা করে তাকে দেন। পরে তিনি সব টাকা আব্দুল হামিদের হাতে তুলে দেন। কিন্তু পরীক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত সুবিধা না পাওয়ায় টাকা ফেরত চান। এ নিয়ে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। 

তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিসিডিএসের লালমনিরহাট শাখার সভাপতি আব্দুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘টাকা নেওয়ার বিষয়ে যিনি অভিযোগ করেছেন, তিনি ঠিক বলেননি। লাইসেন্স আমরা দিই না, লাইসেন্সের প্রসেসিংও আমরা করি না। ওষুধের যারা ব্যবসা করেন, সমিতির সভাপতি হিসেবে তাদের সঙ্গে আমার সখ্যতা রয়েছে।’

এ বিষয়ে লালমনিরহাটের ড্রাগ সুপার আব্দুল খালেক বলেন, পরীক্ষার দিনের হট্টগোলের বিষয়টি তার জানা নেই। এ পরীক্ষার পুরো দায়িত্ব বিসিডিএসের। অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি যেহেতু বাইরে আছি, তাই অফিসে এসে কথা বলুন।’

এদিকে, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের লাইসেন্সসংক্রান্ত কার্যক্রম এবং বিভিন্ন ফার্মেসিতে জরিমানা আরোপ নিয়েও স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ীদের মধ্যে নানা অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, বিভিন্ন ফার্মেসিতে অনিয়মের অভিযোগে জরিমানার নোটিশ পাঠানো হয়। এসব নোটিশে বড় অঙ্কের জরিমানার কথা উল্লেখ থাকে। অভিযোগ রয়েছে, এসব কার্যক্রমকে কেন্দ্র করেও একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়।

ড্রাগ লাইসেন্স প্রদান, ফার্মেসি পরিদর্শন ও জরিমানা আরোপ ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের দায়িত্বাধীন। ফলে পরীক্ষা ঘিরে অর্থ আদায়ের অভিযোগ এবং ফার্মেসিতে জরিমানা নিয়ে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা দাবি করেছেন সচেতন মহল।

পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

প্রতিনিধি/এসআই