জেলা প্রতিনিধি
৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম
ঘড়িতে তখন সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিট। পশ্চিম দিক থেকে এসে ছয় মুখোশধারী দুর্বৃত্ত এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। মাত্র এক মিনিটের মধ্যে দুই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার পর আবার পশ্চিম দিক দিয়েই পালিয়ে যায় তারা। যাওয়ার সময় ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে চলে যায়, যাতে আশপাশের কেউ এগিয়ে আসতে সাহস না পায়।
পাবনার আতাইকুলার পুষ্পপাড়া বাজার এলাকায় বিএনপি নেতা রিপন হোসেন (৪০) ও হাটের ইজারাদার আব্দুস সালামকে (৫০) গুলি করে হত্যার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার ঢাকা-পাবনা মহাসড়কসংলগ্ন পুষ্পপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রিপন হোসেন ধর্মগ্রাম এলাকার মৃত ওমেদ আলীর ছেলে। তিনি আতাইকুলা থানা বিএনপির সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন। অপর নিহত আব্দুস সালাম একই এলাকার মৃত আরজ আলী ব্যাপারীর ছেলে। তিনি পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদার ছিলেন। আব্দুস সালাম শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে ৫ আগস্টের পর তাকে জামায়াতের বিভিন্ন মিছিল ও সমাবেশে দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একের পর এক হত্যাকাণ্ডে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন আতাইকুলার পুষ্পপাড়া বাজার এলাকার মানুষ। ২০১৪ সালের ৩০ মে সন্ধ্যায় এই বাজারেই একইভাবে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে চারজনকে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা। চাঞ্চল্যকর ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনো উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ বলে স্থানীয়দের দাবি।

এক যুগ পর একই বাজারে আবারও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। শুধু পুষ্পপাড়া বাজার নয়, চরমপন্থি তৎপরতার জন্য পরিচিত আতাইকুলার বিভিন্ন এলাকাতেও অতীতে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
নিহত আব্দুস সালামের ভাই আব্দুল কালাম ঢাকা মেইলকে বলেন, “আমার পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার জন্যই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। ২০১৪ সালের চারজনকে হত্যার ঘটনায় আমাদের পরিবারের সদস্যদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছিল। ওই হত্যাকাণ্ডের সময় আমি জেলে ছিলাম, তারপরও আমার নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। এই এলাকায় অপরাধীরা আমাদের কারণে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ করতে পারে না। এ জন্যই তারা আমাদের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করতে চাইছে।”
পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশরাফ ঢাকা মেইলকে বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। আতাইকুলা অঞ্চল আগে থেকেই চরমপন্থি তৎপরতাসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য পরিচিত। তবে আগের তুলনায় বর্তমানে এ অঞ্চলে অপরাধ কমেছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, “আমি পাবনায় আসার পর গত তিন মাসের মধ্যে এই প্রথম এ ধরনের ঘটনা ঘটল। আশা করি, অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পারব।”
প্রতিনিধি/এসএস