জেলা প্রতিনিধি
৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
অবশেষে শেষ হচ্ছে দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার প্রহর। সৌদি আরবের রিয়াদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো নওগাঁর বাকি পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ আগামীকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রায় আড়াই মাস পর প্রিয়জনের মরদেহ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় স্বজনদের মধ্যে শোক আরও ঘনীভূত হয়েছে। একই সঙ্গে মহাজন ও এনজিওর ঋণের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিহতদের পরিবারগুলো।
বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া বাকি পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৩৬ নম্বর ফ্লাইটে শনিবার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
দেশে ফিরতে যাওয়া পাঁচ প্রবাসী হলেন নওগাঁ পৌর এলাকার পার নওগাঁর শাহিন, আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান শুভ, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মাসিদুল সরদার সজিব এবং সাধনগর গ্রামের সাগর আলী।

প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে শেষ হলো অপেক্ষা
গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে ১২ জন ছিলেন নওগাঁর বাসিন্দা। গত ২৭ আগস্ট প্রথম দফায় সাতজনের মরদেহ দেশে আনা হয়। তবে আইনি প্রক্রিয়া ও পরিচয় শনাক্তকরণসংক্রান্ত জটিলতায় বাকি পাঁচজনের মরদেহ সৌদি আরবের হিমঘরে রাখা ছিল।
প্রিয়জনের মুখটি শেষবার দেখার আকুতি নিয়ে এতদিন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন স্বজনেরা। আত্রাইয়ের সত্তরোর্ধ্ব মজনু সরদার ও ছাইদা বেগম দম্পতি ছেলে মাসিদুল সরদারের মরদেহের খোঁজে প্রতি সপ্তাহে লাঠিতে ভর দিয়ে ছুটে যেতেন ইউএনও কার্যালয়ে। সজল চোখে মজনু সরদারের আকুতি ছিল, যাওয়ার আগে যেন শেষবারের মতো ছেলের মুখটি দেখতে পারেন।
অবশেষে তাদের সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ছেলে মিনহাজের ছবি ফোনে দেখে কেঁদে দিন কাটাচ্ছেন মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের পারুল আক্তার। ছেলেকে হারিয়ে তার বুকজুড়ে এখন শুধুই শূন্যতা।

ভিটাবাড়ি বন্ধক, ঋণের চাপে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
মরদেহ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষার মধ্যেও পরিবারগুলোর জন্য বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে ঋণের বোঝা। বিদেশের মাটিতে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় কেউ ভিটেমাটি বন্ধক রেখে, আবার কেউ চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সৌদি আরব পাড়ি জমিয়েছিলেন। তাদের স্বপ্ন অগ্নিকাণ্ডে শেষ হলেও দেশে রয়ে গেছে ঋণের পাহাড়।
আত্রাইয়ের সাধনগর গ্রামের নিহত সাগর আলীর স্ত্রী পারভীন খাতুন জানান, মাত্র ছয় মাস আগে সাড়ে ছয় লাখ টাকা ঋণ করে স্বামীকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন তিনি। একমাত্র সম্বল ভিটাবাড়িটি মহাজনের কাছে বন্ধক রাখা রয়েছে। এরই মধ্যে ঋণের এক লাখ টাকাও পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। দুই সন্তানকে নিয়ে পাওনাদারদের তাগাদায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান জানান, আইনি প্রক্রিয়া ও ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের সমন্বয়ে দ্রুততম সময়ে মরদেহগুলো দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস