জেলা প্রতিনিধি
২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আকতার হোসেন হাওলাদার (৪০) নামের এক জেলে নিহত হয়েছেন। মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান চলাকালে সংঘর্ষের মধ্যে তিনি গুলিবিদ্ধ হন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এ ঘটনায় আরও চার জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে কারা গুলি চালিয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নের শাওড়া অরাকুল মাছঘাটসংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আকতার উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চর মেমানিয়া গ্রামের সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বুধবার দিবাগত রাতে কয়েকজন জেলে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান। ভোরের দিকে শাওড়া অরাকুল মাছঘাটসংলগ্ন এলাকায় একটি অভিযানকারী দলের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুলিতে আকতারসহ কয়েকজন আহত হন।
ঘটনার পর আকতারকে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আহত অন্য জেলেরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানান, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরসংলগ্ন মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালাচ্ছিলেন। এ সময় জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। আত্মরক্ষার্থে অভিযানকারী দলের ছোড়া গুলি আকতারের বুকে লাগে বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।
তবে নিহতের বোন সাথী আক্তারের দাবি, কোস্টগার্ড ও চাঁদপুর নৌ-পুলিশের অতর্কিত গুলিতে তার ভাই আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই জানিয়ে তিনি ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের কথা বলেছেন।
অন্যদিকে, কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের গণমাধ্যমের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘটনার সময় ওই এলাকায় কোস্টগার্ডের কোনো অভিযান চলছিল না। বরিশাল অঞ্চলের নৌ-পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তাও সেখানে নৌ-পুলিশের অভিযান থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।
চাঁদপুর সদর থানা নৌ-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, ওই এলাকায় তাদের কোনো অভিযান চালানো হয়নি। সেখানে অভিযান পরিচালনার মতো স্পিডবোট ও পর্যাপ্ত জনবল তাদের নেই। এ ছাড়া এর আগে অভিযানকারী দলের ওপর জেলেদের একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কেএম মাহফুজুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি জেলে নিহত হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। বুধবার রাতে তাদের কোনো অভিযানকারী দল মেঘনা নদীতে যায়নি। তাদের স্পিডবোট দুই দিন ধরে বিকল থাকায় ছোট ট্রলার দিয়ে সীমিত পরিসরে অভিযান চালানো হয়েছে। অন্য কোনো জেলার অভিযানকারী দল সেখানে অভিযান চালিয়ে থাকতে পারে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে কয়েকজন জেলে তাকে নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তবে কে বা কারা তাকে গুলি করেছে, তা তিনি জানেন না।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান হোসেন বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের পর এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস