জেলা প্রতিনিধি
২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের দেওয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ শিকারে নামবেন জেলার দুই লক্ষাধিক জেলে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার খবরে জেলেপল্লি ও মাছঘাটগুলোতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। জাল, নৌকা ও ট্রলার নিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলেরা
নদীতে মাছ ধরার প্রস্তুতিতে জেলেদের পাশাপাশি ব্যস্ত সময় পার করছেন মৎস্য ব্যবসায়ী ও আড়তদাররাও। দীর্ঘ ২২ দিন পর আবারও মাছ বেচাকেনা শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ৮ অক্টোবর থেকে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর নির্ধারিত অভয়াশ্রমসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে মৎস্য বিভাগ।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ভোলা মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে ২৯৭টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে আইন অমান্য করায় ৮০ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া ২ দশমিক ৬৩ মেট্রিক টন ইলিশ ও ৯ কোটি ৯২ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে টানা ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় জেলার দুই লক্ষাধিক জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েন। অধিকাংশ জেলের বিকল্প আয়ের উৎস না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্থনৈতিক সংকটে দিন কাটাতে হয়েছে তাদের। সংসারের খরচ চালাতে অনেককে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়েছে কিংবা ধারদেনা করতে হয়েছে। সরকারিভাবে জেলার প্রায় দেড় লাখ নিবন্ধিত জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও অনেক জেলে পরিবার সেই চাল পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভোলার তুলাতুলি, হেতনারহাট, মাঝিরহাট, ভোলারখাল ও কোড়ারহাট মাছঘাট ঘুরে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার খবরে জেলেদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ বিরাজ করছে। নদীতে বেশি ও বড় আকারের ইলিশ পাওয়ার আশায় গত কয়েক দিন ধরে জাল মেরামত, নৌকা ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। একই সঙ্গে মাছ বেচাকেনা শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঘাটের ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা।
ভোলারখাল মাছঘাটের জাফর মাঝি বলেন, ‘২২ দিন পর আজ রাতে নদীতে মাছ শিকারে নামব। এনজিও ও মহাজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে নতুন জাল ও নৌকা তৈরি করেছি। আশা করছি, নদীতে বেশি ইলিশ পেলে সেই মাছ বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে পারব।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘সাধারণ জেলেরা সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে নদীতে না গেলেও প্রভাবশালীদের কেউ কেউ ঠিকই ইলিশ শিকার করেছেন। এতে ব্যাপক হারে মা ইলিশ নিধন করা হয়েছে।’
একই ঘাটের জামাল মাঝি বলেন, ‘সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে ২২ দিন নদীতে যাইনি। আজ রাত থেকে মাঝিমাল্লাদের নিয়ে মাছ ধরতে নামব। ভালো ইলিশ পেলে ধারদেনা পরিশোধ করে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ২২ দিন কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের ফলে মা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেয়েছে। এটি ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা নদীতে পর্যাপ্ত মাছ পাবেন এবং সরকারের নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, গত বছর ভোলায় ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন ইলিশ আহরণ করা হয়েছিল। চলতি বছর ইলিশ আহরণের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় আরও বাড়বে বলে আশা করছে জেলা মৎস্য বিভাগ।
প্রতিনিধি/এসএস