জেলা প্রতিনিধি
২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে সরকার। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৭ সালের নভেম্বর মাসে এ মহাপরিকল্পনার কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর নিষ্কাশন খাল পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার অগ্রগতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্প নিয়ে ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। নদী বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের একটি কারিগরি কমিটি কাজ করছে। পাশাপাশি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অর্থমন্ত্রী ফিরে এলে এ বিষয়ে অনুমোদনের অগ্রগতি হতে পারে।
তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরিতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। সিইজিআইএস, নদী কমিশন ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। সবার মতামত সমন্বয় করে তৈরি করা হবে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি)।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্পটি এমনভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে স্থানীয় মানুষ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হন। এ জন্য আরও আট থেকে নয় মাস সময় লাগতে পারে। পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার প্রায় তিন কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও রংপুর জেলার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নদীভাঙন ও বন্যাজনিত দুর্ভোগ মোকাবিলা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ মেগা প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে মহেন্দ্রনগর নিষ্কাশন খাল প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খালটির উদ্বোধন করবেন। খালটি চালু হলে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ সরাসরি সেচসুবিধা পাবেন। পাশাপাশি খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এতে এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি ‘নতুন লালমনিরহাট’ গড়ার উদ্যোগও এগিয়ে যাবে।
পরিদর্শনকালে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা সুনীল কুমার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাসসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/এসএস