Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

নাম বদলে ১৩ বছর আত্মগোপনে, সুলতান হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি

২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ছোট কামারকুন্ডু গ্রামের ব্যবসায়ী খন্দকার সুলতান আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি চঞ্চল বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে ঢাকার আশুলিয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরিচয় গোপন করে নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রায় ১৩ বছর ধরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।

গ্রেফতার চঞ্চল বিশ্বাস ঝিনাইদহ শহরের ভুটিয়ারগাতী এলাকার জহর বিশ্বাসের ছেলে।

ঝিনাইদহ সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আখতার হোসেন মিনা জানান, ব্যবসায়ী সুলতান আহমেদের পুলিশ লাইনসের সামনে গ্রিলের দোকান ছিল। পাশাপাশি তিনি ঠিকাদারি ব্যবসাও করতেন। চুয়াডাঙ্গায় একটি ঠিকাদারি কাজের টাকা সুলতানের কাছে পাওনা ছিল চঞ্চলের। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

এর জের ধরে ২০১৩ সালের ২৯ জুন সন্ধ্যায় মুঠোফোনে সুলতানকে ডেকে নেন চঞ্চল। পরদিন ৩০ জুন সকালে উদয়পুর গ্রামের মাঠ থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ইয়াসমিন সুলতানা বাদী হয়ে চঞ্চলকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর থেকেই পলাতক ছিলেন চঞ্চল।

jhe

পুলিশের তদন্ত শেষে চঞ্চল বিশ্বাস ও জাহাঙ্গীর আলম নামে দুজনকে অভিযুক্ত করে ২০১৫ সালের ১৭ জুন আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। পরে আসামিরা মামলার বিচার ও তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত হয়। গত মাসে সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর আদালত মামলাটির তদন্তভার সিআইডিকে দেন।

পুলিশ পরিদর্শক আখতার হোসেন মিনা বলেন, ‘মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চঞ্চলের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি নাম পরিবর্তন করে সুজা বিশ্বাস পরিচয়ে আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার আলম মার্কেটে ব্যবসা করছিলেন।’

তিনি আরও জানান, মামলার অভিযোগপত্রে থাকা অপর আসামি জাহাঙ্গীর আলম ২০২২ সালে মারা গেছেন। মামলাটির তদন্ত চলছে। তদন্তে নতুন কেউ অভিযুক্ত হলে তার বিরুদ্ধেও তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। গ্রেফতার চঞ্চলকে ঝিনাইদহ সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস