জেলা প্রতিনিধি
২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৩ পিএম
বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের এক চিকিৎসকের পছন্দের ক্লিনিকে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা না করানোয় রোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি রোগী অন্য ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা করিয়ে নিয়ে গেলেও সেই রিপোর্ট না দেখেই ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেডিকেল অফিসার রমজান আলীর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় তথ্য জানতে গেলে সাংবাদিকের কাছে নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন অভিযুক্ত চিকিৎসক।
নগরীর কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোড এলাকার বাসিন্দা মো. সরুজ মল্লিকের স্ত্রী মোসা. নাজমা বেগম বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে মাথাব্যথায় ভুগছেন তিনি। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের নিচতলায় ডা. রমজান আলীকে দেখানোর জন্য লাইনে দাঁড়ান। প্রায় তিন ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসক তাকে দেখেন এবং কয়েকটি পরীক্ষা করাতে বলেন।
নাজমার অভিযোগ, এ সময় চিকিৎসক এক নারীকে দেখিয়ে তার মাধ্যমে নির্দিষ্ট একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানোর কথা বলেন। তবে সেখানে পরীক্ষা না করিয়ে অন্য একটি ক্লিনিক থেকে তুলনামূলক কম খরচে পরীক্ষা করান তিনি।
পরে রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে কেন তার সুপারিশ করা ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা করানো হয়নি, তা জানতে চান রমজান আলী।
নাজমার অভিযোগ, এ সময় তাকে বকাঝকা করা হয় এবং রিপোর্ট না দেখেই ব্যবস্থাপত্র লিখে দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করলে চিকিৎসকের সহযোগীরা তাকে কক্ষ থেকে বের করে দেন।
নাজমা বলেন, আগেও ওই চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলাম। তখনও তার কথামতো নির্দিষ্ট ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা করিয়েছি। এবার অন্য জায়গা থেকে পরীক্ষা করায় আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মশিউল মুনীর বলেন, অভিযুক্ত চিকিৎসক রমজান আলীর বিরুদ্ধে আগেও কিছু অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, হাসপাতালে যোগদানের পর থেকেই পরিবেশ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। রোগীদের হয়রানি ও দালালদের তৎপরতা বন্ধে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। দালাল প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিনিধি/এলএ