Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

‘বাকি টাকা মাগরিবের আগে পাঠাই দিয়েন, না দিলে সব বোট জ্বালাই দিমু’

জেলা প্রতিনিধি

২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম

ভোলার মনপুরায় মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে অর্থের বিনিময়ে মেঘনা নদীতে মাছ শিকারের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখার বিরুদ্ধে। 

এ ঘটনায় মৎস্য ব্যবসায়ী ও উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব হাফেজ আবদুর রহিমের সঙ্গে ওই কর্মকর্তার কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল থেকে অডিও রেকর্ডটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া অডিওতে রহিমকে উদ্দেশ করে কাজল রেখাকে বলতে শোনা যায়, ‘রহিম ভাই, শোনেন, একটা প্যাঁচ দিয়ে থুইয়া গেছেন। আমি না পারি অভিযান করতে। আমার ওপর থেকে চাপ আসতেছে। বাকি টাকা মাগরিবের আগে পাঠাই দিয়েন, না দিলে সব বোটে আগুন জ্বালাই দিমু।’

জবাবে রহিমকে বলতে শোনা যায়, ‘যা করেন করেন, ফরটি ফাইভ দিছি। এর মধ্যে যেভাবে হোক আপনি আমাকে সেভ কইরেন।’

এরপর ওই কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমারে তো চা খাওয়ার জন্যেও দেন নাই। চা খাওয়ার টাকা দিলেও তো খুশি হতাম।’

এদিকে, উপজেলা বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ছালাউদ্দিন প্রিন্স অডিও রেকর্ডটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘এই হলো গরিবের পেটে লাথি মারার অবরোধ, সবকিছু ভাগ-বাটোয়ারার খেলা।’

অভিযোগ রয়েছে, মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত দুই শতাধিক ট্রলারের প্রতিটি থেকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখার বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। 

অভিযোগ অনুযায়ী, সংগৃহীত অর্থের ভাগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন অডিওতে কথোপকথনে থাকা মৎস্য ব্যবসায়ী ও যুবদল নেতা আবদুর রহিম। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযুক্ত মৎস্য ব্যবসায়ী ও উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব হাফেজ আবদুর রহিমের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন মোল্লা বলেন, বিষয়টি শুনেছি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা বলেন, ‘এটা অনেক আগের রেকর্ড।’ পরে তিনি প্রতিবেদককে তার কার্যালয়ে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানান।

মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবিব বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রতিনিধি/এলএ