Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

বান্দরবানে নতুন কুঁড়ির বাছাই নিয়ে সমন্বয়হীনতা, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

জেলা প্রতিনিধি

২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’-এর খেলোয়াড় বাছাইয়ে অংশ নিতে ক্ষুদেবার্তা পেয়ে বান্দরবান জেলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়েও বাছাই কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেনি শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ে স্টেডিয়ামে কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বা আয়োজককে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যায় তারা। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত স্টেডিয়ামে অপেক্ষা করেও বাছাই কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় শিশুদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন অভিভাবকেরা।

অভিভাবকদের সূত্রে জানা যায়, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-এর বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিতে নিবন্ধন করা প্রতিযোগীদের মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হয়। এতে ২৭ অক্টোবর সকাল ৯টার মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বান্দরবান জেলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকতে বলা হয়।

নির্দেশনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন। দূরদূরান্ত থেকেও প্রতিযোগীরা আসে। রোয়াংছড়ি থেকে দাবা ইভেন্টের একজন শিক্ষকও সেখানে উপস্থিত হন। কিন্তু সকাল ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বা আয়োজকের দেখা মেলেনি বলে অভিযোগ তাদের। এ সময় স্টেডিয়ামের ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায় বলেও জানান তারা।

অভিভাবকদের দাবি, বাছাইয়ে অংশ নিতে সেদিন প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিল। দুর্গাপূজা ও প্রবারণা পূর্ণিমার ছুটির পর মঙ্গলবার বিদ্যালয় খোলায় অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে না গিয়ে বাছাইয়ে অংশ নিতে স্টেডিয়ামে আসে। দীর্ঘ সময় রোদে অপেক্ষা করেও কোনো কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় তারা হতাশ হয়ে ফিরে যায়।

new

বান্দরবান পৌরসভার এক অভিভাবক জয়া দত্ত বলেন, “মন্ত্রণালয় থেকে মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তা পেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলেকে ফুটবলের বাছাইয়ে অংশ নিতে সকাল ৯টায় স্টেডিয়ামে নিয়ে যাই। দুপুর ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো কর্মকর্তা বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে পাইনি। এভাবে শিশুদের হয়রানি করা দুঃখজনক।”

দাবা খেলার সংগঠক ও প্রশিক্ষক রত্নজয় তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস থেকে খেলোয়াড় বাছাইয়ের বিষয়ে ক্ষুদেবার্তা পেয়ে তিনিও সকালে স্টেডিয়ামে যান। তার দলের খেলোয়াড়েরা উপস্থিত হয়েছে কি না, তা দেখতে গিয়ে অনেক প্রতিযোগীকে অপেক্ষা করতে দেখেন। কিন্তু স্টেডিয়ামে তালা ঝুলছিল এবং খেলোয়াড়দের গ্রহণ করার জন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। বাছাইয়ের ব্যবস্থা না থাকলে কেন প্রতিযোগীদের ক্ষুদেবার্তা দিয়ে ডেকে আনা হলো, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিভাবকেরা জানতে চান, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বাছাই কার্যক্রম কবে অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কোথায় জমা দিতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের আগে যথাযথ প্রস্তুতি ও সমন্বয় নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম ঢাকা মেইলকে বলেন, “যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বিভিন্ন ইভেন্টে খেলোয়াড় বাছাইয়ের কর্মসূচি ছিল। এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব থাকার কথা পৌরসভার। কিন্তু মন্ত্রণালয় ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় হঠাৎ করে ২৭ অক্টোবর বাছাই কার্যক্রমে উপস্থিত থাকার জন্য ক্ষুদেবার্তা পাঠায়। এ বিষয়ে পৌরসভার কোনো প্রস্তুতি ছিল না।”

তিনি আরও বলেন, সারা দেশেই এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে পৌরসভার সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী সময়ে বাছাই কার্যক্রমের তারিখ ঘোষণা করা হবে।

বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) এস এম মনজুরুল হক ঢাকা মেইলকে বলেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের খেলোয়াড় বাছাইয়ের বিষয়ে পৌরসভার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ বা সমন্বয় করেননি। এ কারণে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।

প্রতিনিধি/এসএস