Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

ঈশ্বরদীতে পদ্মার কোলঘেঁষে বালু উত্তোলন, হুমকিতে স্কুল-জনবসতি

জেলা প্রতিনিধি

২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম

পাবনার ঈশ্বরদীতে স্কুলের কোলঘেঁষেই পদ্মা নদীতে গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত বালু উত্তোলনের কর্মযজ্ঞ চলছে। এতে উদ্বেগে পড়েছেন নদীপারের বাসিন্দারা। নদী ভাঙন, বসতবাড়ি, নদীর তীর রক্ষা ব্লক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, ঈশ্বরদীর আরামবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাত্র কয়েকশ মিটার দূরত্বে বালু ঘিরে এ কর্মযজ্ঞ চলছে। রাত গভীর হলেই তারা বালু উত্তোলনের তৎপরতা শুরু করে, চলে ভোর পর্যন্ত। এলাকার প্রভাবশালীরা এমন কর্মকাণ্ড করলেও প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস করেন না কেউ।

Pabna_balu_photo-(4)-28-10-2026

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা-নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে তীরের মাটি দুর্বল হলে আরামবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং বসতবাড়ি ও আশপাশের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ঝুঁকিতে পড়তে পারে নদীর তীর রক্ষায় স্থাপন করা ব্লকও। একাধিকবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে নতুন করে বসতি গড়া মানুষজন তাই আবারও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

শুধু আরামবাড়িয়া নয়, রূপপুর ফুটো মার্কেটসহ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের বিভিন্ন স্থানেও খণ্ড খণ্ডভাবে বালু উত্তোলনের কর্মযজ্ঞ চলছে। বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে সংঘাত ও গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে রাতের তৎপরতা বন্ধে কার্যকর নজরদারি এবং জনবসতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Pabna_balu_photo-(1)-28-10-2026

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বালু উত্তোলনকারীরা। আনারুল ইসলাম নামের এক অভিযুক্ত বালু উত্তোলনকারী বলেন, স্কুল থেকে অনেক দূরে মেশিন বসানো, এতে কোনো সমস্যা হবে না। আর আমরা বালু নিয়ে আসতেছি অনেক দূর থেকে এখানে শুধু আনলোড করি, কোনো বালু উত্তোলন করি না।

এ বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেছেন, পাবনা জেলায় কোনো বৈধ বালু মহল নেই। তাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/টিবি