জেলা প্রতিনিধি
২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৯ এএম
হবিগঞ্জে আইফোনের লোভে বন্ধুকে বন্ধু সাদেক মিয়ার হাতে প্রাণ হারাতে হয়েছে তারেক মিয়া (২২) নামের এক তরুণকে। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর পুলিশ নিহতের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে বন্ধু সাদেক মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে নবীগঞ্জ উপজেলার চৌশতপুর এলাকার এক চায়ের দোকান থেকে সাদেক মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৮টার দিকে লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকার এক খাল থেকে তারেক মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এস এম মনসুর মুসা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তারেক মিয়া নবীগঞ্জ উপজেলার চৌশতপুর এলাকার মারফত উল্লাহর ছেলে। গ্রেফতার সাদেক মিয়াও একই এলাকার বাসিন্দা। তিনি নানু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কাজের উদ্দেশ্যে দুই বন্ধু লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকায় যান। সেখানে তারেকের কাছে থাকা একটি আইফোন নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সাদেক মিয়া তারেককে গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ একটি খালে ফেলে দেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, তারেক নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার নবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে তারেকের বন্ধু সাদেক মিয়াকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় বলে জানায় পুলিশ।
নবীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হোসেন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাদেক মিয়া আইফোন নেওয়ার উদ্দেশ্যে তারেককে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফুলবাড়িয়া এলাকার একটি খাল থেকে তারেকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কার্যক্রম সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রতিনিধি/টিবি