Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

পূর্বনির্ধারিত স্থানেই শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি

জেলা প্রতিনিধি

২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম

শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত ক্যাম্পাসের স্থান পরিবর্তনের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। জেলা শহরের কাছাকাছি শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে পূর্বনির্ধারিত স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের দাবি, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণ করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে শরীয়তপুর জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরসংলগ্ন শরীয়তপুর-ঢাকা সড়কে ‘জাগো শরীয়তপুর’-এর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সদর, নড়িয়া, জাজিরাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে পূর্বনির্ধারিত স্থান বহাল রাখার দাবি জানানো হয়।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস স্থাপনের ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরছেন অনেকে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, আবাসন, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও শিক্ষা-সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বক্তাদের ভাষ্য, জেলা শহরের কাছাকাছি শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশের প্রস্তাবিত স্থানটি যোগাযোগ ও নাগরিক সুবিধার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। সেই স্থান পরিবর্তন করে জেলার এক প্রান্তে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দেওয়ায় জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

তারা আরও বলেন, ডামুড্যা ও গোসাইরহাট উপজেলার সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তি বাড়তে পারে। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবাসন, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা-সহায়ক অবকাঠামো নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ‘জাগো শরীয়তপুর’-এর আহ্বায়ক আমিন মোহাম্মদ জিতু, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইমরান আল নাজির, শরীয়তপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সামাদ বেপারীসহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু নির্দিষ্ট কোনো এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখে না; বরং পুরো জেলার উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশেও অবদান রাখে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্বাচনে ব্যক্তি বা এলাকাভিত্তিক স্বার্থের পরিবর্তে জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জেলা শহরের কাছাকাছি শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে পূর্বনির্ধারিত স্থানেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তারা।

0b9606b9-0604-46ec-ab5a-9a6ad1273591

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের অক্টোবরে শরীয়তপুরে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই বছরের ১২ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) খসড়া আইন প্রণয়নের জন্য চিঠি দেয়।

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন প্রণয়নের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ৯ জানুয়ারি খসড়া আইনটি অনুমোদিত হয়। একই বছরের ১২ জুন মন্ত্রিসভায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৩ চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। পরে ১৩ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টির গেজেট প্রকাশ করা হয়। শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম ছিল ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শরীয়তপুর’।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ রাখা হয়। পরে গত ৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক হোসেন উদ্দিন শেখরকে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়।

গত ১৬ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হোসেন উদ্দিন শেখর ও শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নে জমি পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু। পরিদর্শন শেষে তিনি ওই এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস স্থাপনের ঘোষণা দেন।

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হুইপ বলেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং কম দামে জমি পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পূর্ব ডামুড্যা এলাকায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তার এ ঘোষণার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নিয়ে জেলাজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি বিভিন্ন আড্ডা ও জনপরিসরেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পূর্বনির্ধারিত স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

প্রতিনিধি/এসএস