Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

নাজিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতিতে দ্বন্দ্ব, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি

২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। সমিতির সভাপতি ও অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে থাকা সদস্যদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পাশাপাশি স্বাক্ষর জালিয়াতি ও শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এসব বিরোধে সংগঠনের কার্যক্রম ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সমিতির কয়েকজন সদস্য।

অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে আবেদনকারী ও সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রুবানা আক্তার অভিযোগ করেন, সাধারণ শিক্ষকেরা বিভিন্ন প্রয়োজনে সভাপতির কাছে গেলে তিনি তাদের টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। ডিপিএড বা পিটিআই প্রশিক্ষণে শিক্ষকদের নাম পাঠানো কিংবা তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রেও মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় বলে তার অভিযোগ।

সমিতির সদ্য ঘোষিত সভাপতি মো. জামিল হোসেন জানান, ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি উপজেলা কমিটি গঠনের পর থেকে সভাপতি কোনো কার্যনির্বাহী সভা আহ্বান করেননি। কমিটিকে উপেক্ষা করে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সংগঠনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে এবং ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনাস্থা প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও জানান জামিল হোসেন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. আবুল কাশেম অনাস্থা প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নাজিরপুর উপজেলা সভাপতির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে। তার কর্মকাণ্ডে কেন্দ্রীয় কমিটি অসন্তুষ্ট এবং শিগগিরই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

তবে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে সমিতির সদস্যদের মধ্যেও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। সমিতির সমাজকল্যাণ সম্পাদক শশাঙ্ক হীরা, সমবায় সম্পাদক হুমায়ুন রাজীব ও সদস্য মিলন শীল অভিযোগ করেন, অনাস্থা প্রস্তাবে তাদের নাম ব্যবহার করে স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।

অন্যদিকে, যোগাযোগ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান ফারুক, শিক্ষা সম্পাদক কাজী শামীম ও সদস্য মো. নান্না মিয়া দাবি করেন, জোরপূর্বক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে তাদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। সংস্কৃতি ও বিনোদন সম্পাদক প্রণব পার্থ হাজরা এবং সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শিল্পী কর্মকারের অভিযোগ, সমিতির সভার কথা বলে তাঁদের ভুল বুঝিয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন, জালিয়াতিপূর্ণ ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকনেতা ও সদস্যরা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সমিতির সভাপতি এ কে এম ফয়সাল আলম অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়ে অবগত থাকার কথা স্বীকার করে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে।।

এদিকে, সমিতির নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের অনেকে। তাদের মতে, শিক্ষকদের সংগঠনকেন্দ্রিক বিরোধের প্রভাব যেন শ্রেণিকক্ষের পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশে না পড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

প্রতিনিধি/এসএস