জেলা প্রতিনিধি
২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার শালমারা গ্রামে বসতঘরের ভেতরে দাফন করা করিম মিয়ার মরদেহ অন্য স্থানে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পরিবারের নিজস্ব কবরস্থানের জায়গা না থাকায় তাকে বসতঘরের ভেতরে দাফন করা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর জেলা প্রশাসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) করিম মিয়ার মরদেহ বর্তমান কবর থেকে তুলে অন্য স্থানে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামে একটি সর্বজনীন কবরস্থান স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, ৬০ বছর বয়সী করিম মিয়া গত রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরদিন সোমবার সকালে শ্রীবরদী উপজেলার তাতিহাটি ইউনিয়নের শালমারা গ্রামে নিজ বসতঘরের ভেতরে তাকে দাফন করা হয়। পরিবারের অন্য কোনো জমি না থাকায় স্বজনেরা সেখানে তাকে দাফন করতে বাধ্য হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শালমারা গ্রামে করিম মিয়ার পরিবারের মতো অনেকেরই বসতভিটা ছাড়া অন্য কোনো জমি নেই। এলাকায় পারিবারিক কবরস্থান থাকলেও সবার জন্য উন্মুক্ত কোনো গণকবরস্থান নেই। ফলে যেসব পরিবারের নিজস্ব কবরস্থানের ব্যবস্থা নেই, তাঁদের স্বজনের মৃত্যুর পর দাফন নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। এমন পরিস্থিতিতে কেউ বাড়ির উঠানে, কেউ বসতবাড়ির সামনের অংশে, আবার কেউ ঘরের পাশে মরদেহ দাফন করেন।
শালমারা গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ মিয়া বলেন, গ্রামে একটি সর্বজনীন কবরস্থান স্থাপনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও এলাকার সচেতন ব্যক্তিদের কাছে দাবি জানানো হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। করিম মিয়াকে নিজের বসতঘরের ভেতরে দাফন করতে হওয়ায় এলাকায় বেদনাদায়ক ও বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
করিম মিয়ার মেয়ে করফুলি ও রিক্তা পারভীন জানান, তাদের পরিবারের সম্বল বলতে বসতভিটার জমিটুকুই। অন্য কোথাও জমি না থাকায় বাবার দাফনের জন্য বিকল্প জায়গা খুঁজে পাননি তারা। এখন প্রশাসনের উদ্যোগে বাবার মরদেহ অন্যত্র দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদ বলেন, করিম মিয়ার মরদেহ বর্তমান কবর থেকে তুলে অন্য স্থানে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পরামর্শ করে শালমারা গ্রামে একটি গণকবরস্থান স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস