জেলা প্রতিনিধি
২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে রেখেই আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তুলেছিলেন এক টিকটকার ও আইনজীবীর সহকারী। তবে সেই বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত মুখে চুন-কালি মেখে, গলায় জুতার মালা পরিয়ে গ্রামছাড়া হতে হয়েছে তাকে।
আলোচিত এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা ও আইনজীবীর সহকারী মাসুদ রানা (৩৫)। তার প্রথম স্ত্রীর নাম মৌসুমী (২৮) এবং দ্বিতীয় স্ত্রী (শ্যালিকা) পূর্ণিমা (২১)। মাসুদ রানা বদলগাছী উপজেলায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।
জানা যায়, গত রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পরিবারের সম্মতি এবং প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর অনুমোদনেই পূর্ণিমাকে বিয়ে করেন মাসুদ রানা। বিয়ের পরপরই তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই খবর প্রকাশ করেন। মুহূর্তেই সেই পোস্ট ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বদলগাছীর স্থানীয়রা তাদের ভাড়া বাসায় থাকতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। পরবর্তীতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঘরের আসবাবপত্র গুটিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে মহাদেবপুরে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন মাসুদ।
তবে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকায় পৌঁছানোর পর স্থানীয়দের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের ওপর এই বিয়ের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—এমন অজুহাতে তারা মাসুদ রানার মুখে চুন-কালি মাখিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে মাসুদ রানা জানান, পূর্ণিমার অন্যত্র বিয়ে হলে অতীতে তাদের এক সঙ্গে তৈরি করা কিছু টিকটক ভিডিও নিয়ে তাকে হয়রানির মুখে পড়তে হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তিনি শ্যালিকাকে বিয়ে করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে ইসলামী বিধান জানতে চাইলে স্থানীয় আলেম মাওলানা রেজাউল করিম জানান, পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে একসঙ্গে দুই বোনকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। প্রথম স্ত্রী বৈবাহিক সম্পর্কে থাকা অবস্থায় তার আপন বোনকে বিয়ে করা শরিয়তসম্মত নয়। তবে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু হলে বা বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর নিয়ম মেনে শ্যালিকাকে বিয়ে করা যেতে পারে।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিনিধি/টিবি