Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

সংকট নিরসনে প্রশাসন-আন্দোলনকারীদের বৈঠক, মেলেনি সমাধান

জেলা প্রতিনিধি

২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সড়কে  সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি  অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে পঞ্চমদিনের মতো সড়ক অবরোধ পালিত হয়েছে। এদিকে, সাজেকে সৃষ্ট ঘটনা নিরসনে প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। তবে বৈঠকটি 'অমীমাংসিতভাবেই' শেষ হয়েছে। 

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে ৬টা থেকে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কের ১০ নম্বর এলাকা, হাজাছড়া ও মাচালং এলাকাসহ সাজেক সড়কের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে অবরোধ পালন করেন অবরোধকারীরা। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।

অন্যদিকে, সাজেকে সৃষ্ট ঘটনা নিরসনে সাজেক উজোবাজারে বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠক হয়। বৈঠকে আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের কাছে পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। তবে পাঁচটি দাবির মধ্যে চারটি দাবি প্রশাসন মেনে নিলেও একটি দাবি মেনে না নেওয়ায় বৈঠকটি অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়।

দাবিগুলো মধ্যে রয়েছে- ১.  অবরোধকারীদের ওপর 'বিনা উসকানি হামলার' সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দিতে হবে এবং হামলায় নেতৃত্বদানকারী বাঘাইহাট ক্যাম্প কমান্ডার ও মাচালং ক্যাম্প কমান্ডারকে পার্বত্য অঞ্চল থেকে বদলি করতে হবে। এছাড়া 'মিথ্যা নাটক' সাজিয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০০০ জনের নামে করা মামলা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। 

২. উজোবাজারের স্থানীয় দোকান ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে- তার যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। উজোবাজার থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে সরিয়ে নিতে হবে। 

৩. আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক যে সকল নারী-পুরুষকে মারধর করে আহত করা হয়েছে তাদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ভার গ্রহণ করতে হবে।

৪. জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপের 'সশস্ত্র' সদস্যদেরকে সাজেক থেকে অতি দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে। তাদের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধ করতে হবে। 

৫. আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের কাউকে সন্ত্রাসী তকমা লাগিয়ে গ্রেফতার, হয়রানি ও তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি করা যাবে না। এসব পাঁচ দাবির মধ্যে চারটি দাবি প্রশাসন মেনে নিলেও ৪ নম্বর দাবি নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় বৈঠকটি অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- খাগড়াছড়ি সংসদীয়  আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, খাগড়াছড়ি জেলাপ্রশাসক আনোয়ার সাদাত, খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মোরতোজা আলী খাঁন, বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান, সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন। 

আন্দোলনকারীদের পক্ষে বৈঠক ছিলেন- সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা, সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ সময় ধরে বৈঠক হয়েছে। প্রশাসন আমাদের পাঁচটি দাবির মধ্যে চারটি দাবি মেনে নিলেও ৪ নম্বর দাবিটি নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়নি। প্রশাসন ৪ নম্বর দাবিটি সমাধান তিন সপ্তাহ সময় চেয়েছি। কিন্তু আমরা তাদের পাঁচদিন সময় দিয়েছি, প্রশাসন তা মানতে রাজি না হওয়ায় বৈঠক অমীমাংসিত শেষ হয়েছে। 

এদিকে বৈঠকের বিষয় জানতে রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফীর যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

তবে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বৈঠকের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না। এ বিষয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খাগড়াছড়ি গিয়ে বিস্তারিত ব্রিফ করবেন। 

এদিকে, বিকেলের বৈঠকের পর রাতে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আমাদের আলাপ হয়েছে। তাদের ৫টি দাবি ছিল। মোটামুটি সমঝোতা হয়েছে, তবে আর একটি বিষয়ে একটু বাকি রয়েছে৷ রাত হয়ে গেছে, নিরাপত্তার ইস্যু আছে- তাই আলোচনা আর কন্টিনিউ করিনি। আশা করি, দুই-এক দিনের মধ্যে বাকি পয়েন্টটা আলোচনা করে একটা সমাধানের দিকে যাবে এবং সহসাই অবরোধ প্রত্যাহার করে রাস্তা ওপেন হবে।

এদিকে, সাজেকে সৃষ্ট ঘটনা নিরসনে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন থেকে গঠিত তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল সোমবার সকালে বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে সাজেকের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা ও জননিরাপত্তা নিয়ে হেডম্যান ও কারবারিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান, গঠিত কমিটির সদস্য ভবতোষ দেওয়ান, শান্তিবিজয় চাকমা, কল্যাণমিত্র চাকমা ছাড়াও বাঘাইছড়ি থানার ওসি নাসির উদ্দিন মজুমদার, সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন, সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমাসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় হেডম্যান-কারবারীরা উপস্থিত ছিলেন‎।

‎সভায় সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতি, স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা এবং জননিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। তবে মতবিনিময় সভায় সাজেকের আন্দোলনকারী দুটি সংগঠনের কেউই অংশ নেয়নি। 

সাজেক সৃষ্ট ঘটনা নিরসনে জেলা প্রশাসনের গঠিত কমিটির অন্যতম সদস্য শান্তি বিজয় চাকমা বলেন, সাজেক পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উপজেলা প্রশাসন, হেডম্যান কার্বারিদের নিয়ে আলোচনা করেছি। তবে যারা আন্দোলন করছেন দুটি সংগঠন থেকে মতবিনিময় সভায় কেউই আসেননি। তবে এ মতবিনিময় সভার বিষয়ে  আমরা জেলা প্রশাসককে অবগত করব। এরপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

প্রতিনিধি/এলএ