জেলা প্রতিনিধি
২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে বাঘের আক্রমণে নারীসহ তিনজন আহত হওয়ার পর থেকে আতঙ্ক বিরাজ করছে সীমান্তবর্তী এলাকায়। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বাঘটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ড্রোনের সাহায্যে তল্লাশি, সতর্কতামূলক মাইকিং ও টহল জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধারে বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে ১৫ বিজিবি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের উত্তর আমঝোল সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিরা হলেন আমঝোল গ্রামের শহিদার রহমানের স্ত্রী শরিফা বেগম (৩০), একই এলাকার মৃত মনির হোসেনের ছেলে আফসার হোসেন (৪০) ও নজরুল ইসলাম।
১৫ বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, ব্যাটালিয়নের অধীন বনচৌকি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ৯০৫/১১-এস থেকে আনুমানিক ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে। শরিফা বেগম হারিয়ে যাওয়া ছাগল খুঁজতে ধানখেতের পাশে গেলে একটি বাঘ তাকে আক্রমণ করে। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন উদ্ধারে এগিয়ে এলে বাঘটির আক্রমণে আরও দুজন আহত হন।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তায় ফাঁকা গুলি ছোড়ে বিজিবির টহল দল। এতে বাঘটি ঘটনাস্থল ছেড়ে পাশের জঙ্গলে চলে যায়। পরে বাঘটিকে শনাক্ত ও উদ্ধারে এলাকায় তল্লাশি শুরু করে বিজিবি। ড্রোনের সাহায্যে বাঘটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানোর পাশাপাশি সতর্কতামূলক মাইকিং করা হয়।
আহত তিনজনের মধ্যে গুরুতর আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অপরজন হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

এদিকে, বাঘটিকে উদ্ধারে ঢাকা থেকে বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ দলের চার সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। তাদের সঙ্গে লালমনিরহাট, হাতীবান্ধা ও রংপুরের ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন। বাঘটিকে শনাক্ত ও নিরাপদে উদ্ধারের লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম। বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধার এবং পুনরায় লোকালয়ে প্রবেশের ঝুঁকি এড়াতে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বন বিভাগকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বিজিবি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাঘের আক্রমণের পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। রোববার রাতে টর্চলাইট ও মুঠোফোনের আলো জ্বালিয়ে অনেকে বাঘটির সন্ধানে এলাকায় অবস্থান করেন। বাঘটিকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দারা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল পর্যন্ত বাঘটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বাঘটির অবস্থান শনাক্ত ও নিরাপদে উদ্ধারে বন বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট দলের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস