Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

স্বামী-শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলার পর সংসার করতে চান গৃহবধূ

জেলা প্রতিনিধি

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলা করা এক গৃহবধূ বাবার বাড়ি থেকে ফিরে স্বামীর সঙ্গে সংসার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার অভিযোগ, মা ফাতেমা বেগম ও সৎ বাবা মনিরুজ্জামানের প্ররোচনা ও চাপে পড়ে তিনি ওই মামলা করেছিলেন। তবে তার মা ও সৎ বাবা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে শাহনাজ আক্তার নামের ওই গৃহবধূ লোহাগড়া উপজেলার মদিনাপাড়ায় স্বামীর ভাড়া বাসায় ফিরে আসেন।

শাহনাজ আক্তার বলেন, সৌরভ দেওয়ানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে সাত মাস আগে। তাদের সংসার ভালোই চলছিল। এর মধ্যে তার মা ও সৎ বাবা শ্বশুর নাজিম দেওয়ানের কাছে টাকা ধার চান। তিনি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে কেন্দ্র করে চেক ও স্বর্ণ নেওয়ার অভিযোগে মামলা করা হয় বলে দাবি শাহনাজের।

তিনি বলেন, আগে থেকেই একটি মামলা চলছিল। এর মধ্যে একদিন রাতে তার মা জানান, নানু অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাকে দেখতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশ নিয়ে এসে তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শাহনাজের দাবি, ওই মামলায় তার শাশুড়ি কারাভোগের পর জামিনে রয়েছেন এবং শ্বশুর এখনো কারাগারে আছেন।

শাহনাজ আরও অভিযোগ করেন, তার মা ও সৎ বাবা তাকে মারধর করেছেন। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, তিনি বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। গর্ভের সন্তানকে ক্ষতি করার আশঙ্কা থেকে বাবার বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছেন।

তিনি বলেন, “আমি আমার সন্তানকে বাঁচাতে চাই। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে থাকতে চাই। আমাকে দিয়ে জোর করে মামলা করানো হয়েছে। আমি নিজের ইচ্ছায় মামলা করিনি। এখন স্বামী সৌরভের সঙ্গে সংসার করতে চাই। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, আমাকে স্বামীর সঙ্গে থাকতে দেওয়া হোক।”

শাহনাজ জানান, চলতি মাসের ৫ তারিখে তিনি বাবার বাড়িতে গিয়েছিলেন। ওই ঘটনার পেছনে চার-পাঁচজনের একটি চক্র রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করতে চান বলে জানান এই গৃহবধূ।

শাহনাজের স্বামীর বাড়িতে তার মা ফাতেমা বেগম ও সৎ বাবা মনিরুজ্জামান উপস্থিত হলে তার মুঠোফোন নিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় শাহনাজের হাত কেটে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

পরে সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে গেলে মনিরুজ্জামান ও ফাতেমা বেগম ফোনটি নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে ফাতেমা বেগম দাবি করেন, ফোনটি শাহনাজের নয়, তার নিজের। শাহনাজকে দিয়ে জোরপূর্বক মামলা করানো এবং তার গর্ভের সন্তান নষ্টের চেষ্টা করার অভিযোগও তারা অস্বীকার করেন।

ঘটনাটি লোহাগড়া থানা-পুলিশকে জানানো হলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ যাওয়ার খবর পেয়ে মনিরুজ্জামান ও ফাতেমা বেগম সেখান থেকে চলে যান বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এসএস