জেলা প্রতিনিধি
২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
শেরপুর শহরকে অপরাধমুক্ত রাখতে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর সিংহভাগই এখন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলার তদারকিতে নিয়োজিত ৪০টি ক্যামেরার মধ্যে ৩০টির বেশিই বছর না ঘুরতেই বিকল হয়ে যায়। গত অর্ধবছর ধরে পুরো নজরদারি ব্যবস্থা প্রায় অচল থাকার পর সম্প্রতি সচল করা গেছে মাত্র চারটি ক্যামেরা। ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে তদারকি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শেরপুর পৌরসভার অর্থায়ন ও সদর থানার সহায়তায় প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে এসব ক্যামেরা বসানো হয়। চালুর পর থেকে থানা ও পৌরসভা কার্যালয়— দুই স্থান থেকেই শহর পর্যবেক্ষণ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
তবে স্থাপনের এক বছরের মধ্যেই অধিকাংশ ক্যামেরা বিকল হয়ে পড়ায় পুরো নজরদারি ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের পাশে স্থাপিত কিছু খুঁটিতে এখনো এক বা একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। তবে কয়েকটি স্থানে ক্যামেরা থাকলেও সংযোগের তার দেখা যায়নি। কোথাও আবার ক্যামেরার সামনে জমে আছে ময়লা-আবর্জনা, যা এর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে।
এতে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, সিসিটিভি সুবিধা বন্ধ থাকায় এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদকের বিস্তার বেড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা নামলেই শহরের প্রধান প্রধান পথ ও নির্জন গলিতে যাতায়াত করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এ পরিস্থিতিতে দ্রুত অচল ক্যামেরাগুলো মেরামত করে পুরো নজরদারি ব্যবস্থা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি ক্যামেরাগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা, কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধান এবং সংযোগের তার চুরি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
সন্ধ্যার পর চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গৃদ্দা নারায়ণপুরের বাসিন্দা রুবেল মিয়া। তার মতে, বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে শহরের নজরদারি ব্যবস্থা কার্যকর থাকা প্রয়োজন। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তা তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া কঠিন হতে পারে, যদি ক্যামেরাগুলো কাজ না করে। তাই তার দাবি, স্থাপিত ক্যামেরাগুলোর কার্যকারিতা বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি করা দরকার।
অন্যদিকে, নষ্ট হয়ে যাওয়া ক্যামেরাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শেরপুর পৌরসভার প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা। তিনি জানান, আবহাওয়াজনিত প্রভাব ও বিভিন্ন কারিগরি সমস্যার কারণে কয়েকটি ক্যামেরা বিকল হয়েছিল। সেগুলো মেরামতের কার্যক্রম চলছে। ভবিষ্যতে পৌরসভার আরও কয়েকটি স্থানে নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রশাসক বলেন, শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি কাজে আসবে। ক্যামেরাগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য শুধু পৌরসভা নয়, থানা থেকেও ব্যবস্থা রয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, অপরাধ প্রতিরোধ ও তদন্তের কাজে সিসিটিভি ক্যামেরা আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থার একটি কার্যকর প্রযুক্তি। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা ক্যামেরাগুলো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সহায়তা করছে। অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সতর্কতা তৈরি করা এবং কোনো ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ ও অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রেও এসব ক্যামেরার ভূমিকা রয়েছে।
তিনি জানান, যেসব ক্যামেরা বর্তমানে অকেজো রয়েছে, সেগুলোর অবস্থা যাচাই করে দ্রুত মেরামত অথবা নতুন ক্যামেরা দিয়ে প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ব্যক্তিগতভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাড়ি, দোকান কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ক্যামেরা স্থাপন করা থাকলে অন্তত একটি ক্যামেরা সড়কমুখী করে রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। এতে রাস্তায় কোনো অপরাধ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং তদন্তের কাজে পুলিশ বাড়তি সহযোগিতা পাবে।
প্রতিনিধি/এলএ