উপজেলা প্রতিনিধি
২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
সাভার থানা বিএনপির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলামকে বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন বনগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক সমাবেশ শেষে তারা এ ঘোষণা দেন।
সমাবেশে সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে জমি দখল, ভূমিদস্যুতা ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন নেতারা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সাইফুল ইসলাম দাবি করেছেন, তাকে জড়িয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সাভার থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা। প্রধান বক্তা ছিলেন সাভার থানা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুল ইবনে হাসিব সোহেল।
সমাবেশ-পরবর্তী বক্তব্যে বনগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেন, সাইফুল ইসলাম দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে ওয়েস্টার্ন ভ্যালি এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখল করছেন। এ ছাড়া দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সাভার থানা বিএনপির নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে রাখার অভিযোগও তোলেন তারা।
সাইদুল ইবনে হাসিব সোহেল বলেন, বিএনপিতে অনেক নির্যাতিত ও নিপীড়িত নেতাকর্মী রয়েছেন, যারা যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, কিছু ব্যক্তি অপকর্মের মাধ্যমে সমাজ ও দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। এমন ব্যক্তিদের বয়কট করা হচ্ছে এবং সাংগঠনিকভাবেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোহেল আরও বলেন, সমাবেশটি সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আয়োজন করা হয়েছে। যে দলেরই কেউ এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকুক, তাকে ছাড় দেওয়া উচিত নয়। চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিএনপিতে জায়গা হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সাভার থানা বিএনপির সহসভাপতি একলাছ উদ্দিন, আবদুল্লাহ, আবুল খায়ের, মো. ইউসুফ আলী, মো. আমীর শের আলী ও আবদুস সালামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে সাইফুল ইসলাম বলেন, সমাবেশটি মূলত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আয়োজন করা হয়েছিল। ব্যানারেও সে কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু সমাবেশে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বক্তব্য না দিয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে।
সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, তাকে বয়কট করাই যদি সমাবেশের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তাহলে ব্যানারে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত ছিল। সে ক্ষেত্রে সমাবেশে কত লোক উপস্থিত হতেন, তা দেখা যেত। তার দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জামায়াত ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর ফুটবল প্রতীকের সমর্থকেরা জড়িত। তারা বিএনপিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন।
নিজের অবস্থান তুলে ধরে সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমি আমার বিচারের ভার জনতার আদালতে দিলাম। আমি যদি কোনো ভুল করি, তাহলে সেই বিচার জনগণই করবে।”
প্রতিনিধি/এসএস