জেলা প্রতিনিধি
২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৮ এএম
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় নৈশ টহল চলাকালে পুলিশের থামার সংকেত অমান্য করে মোটরসাইকেল দিয়ে এক পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা দিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা ও পুলিশ অ্যাসল্ট মামলার আসামি মারুফ হোসেনকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে দর্শনা থানার উজলপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মারুফ হোসেন দর্শনা থানার জয়নগর (কাস্টমপাড়া) গ্রামের আব্দুস সামাদ ওরফে জাম্বুর ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে দামুড়হুদার লোকনাথপুর গ্রামে ফায়ার সার্ভিসের উত্তর পাশে ছোট পোল এলাকায় নৈশ টহল দিচ্ছিলেন দামুড়হুদা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল। এ সময় লোকনাথপুর থেকে দর্শনাগামী একটি মোটরসাইকেলকে বেপরোয়া গতিতে আসতে দেখে থামার সংকেত দেন পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু মোটরসাইকেল আরোহী সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কর্তব্যরত পুলিশ কনস্টেবল আলমগীর হোসেনকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে মোটরসাইকেলটি ফেলে পালিয়ে যান তিনি।
এতে পুলিশ সদস্য আলমগীর হোসেনের মাথা, চোখ, পিঠ ও পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাস্থল থেকে লাল-কালো রঙের একটি হিরো গ্ল্যামার মোটরসাইকেল জব্দ করে পুলিশ। এ ঘটনায় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দামুড়হুদা মডেল থানায় সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ সদস্যকে গুরুতর জখম ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়।
পরে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ারের নির্দেশনায় এবং দামুড়হুদা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নুরুল্লাহর তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাহাবুল হকের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মারুফকে গ্রেফতার করা হয়।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন জানান, নৈশ টহল চলাকালে পুলিশের থামার সংকেত অমান্য করে মোটরসাইকেল দিয়ে এক পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা দিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি মারুফ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্য বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গ্রেফতার মারুফের বিরুদ্ধে দর্শনা ও ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরও ৯টি মামলার তথ্য রয়েছে। তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রতিনিধি/ এজে