জেলা প্রতিনিধি
২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
গাজীপুরে সুতার কারখানার গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৭০-৮০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন একটি গুদামের মালিক। এ ঘটনায় তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন।
এদিকে টানা চার ঘণ্টা জ্বলার পর ফায়ার সার্ভিসের নয়টি ইউনিটের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে দুটি কারখানার গুদামে লাগা আগুন। পানি স্বল্পতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় বেশি সময় লাগলেও এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সোয়া ১০টার দিকে কাশিমপুর থানার শৈলডোবি এলাকায় সুপ্রিম গার্মেন্টসের কার্টনের গুদামে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তে আগুনের লেলিহান শিখা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ডিবিএল মিনি ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আগুনের ব্যাপকতা বেড়ে যাওয়ায় তা পাশের ডিবিএল কারখানা গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর কাশিমপুর, কোনাবাড়ি মডার্ন ফায়ার সার্ভিস ও আশেপাশের আরও স্টেশনের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
কারখানা শ্রমিকরা বলছেন, শুরুতে সুপ্রিম কারখানার গুদামে আগুন লাগে। কিন্তু ফায়ার সার্ভিস দেরিতে পৌঁছানোয় এবং ডিবিএল কারখানার গুদামে অগ্নিনির্বাপন পরে শুরু করায় বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ ব্যাপারে ডিবিএল কারখানা গুদামের জমির মালিক সাইফুল ইসলাম শাহীনের দাবি, কারখানার এই গুদামে ১০০০ টন বিভিন্ন মানের সুতা মজুত ছিল। আগুনে গুদামের শেড ও ভেতরের মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে অন্তত ৭০-৮০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পাশের সুপ্রিম গার্মেন্টসের কার্টন ও কেমিক্যালের গুদামে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। তাদের লাগা আগুন আমাদের গুদামে ছড়িয়ে এত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমি এর নিরপেক্ষ তদন্ত চাই ।
ঢাকা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক কাজী নাজমুজ্জামান বলেন, সোয়া ১০টায় লাগা আগুন ৯টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে গুদামের টিনের ক্ষতিগ্রস্ত শেড সরিয়ে ডাম্পিং কাজ চলছে, যা সম্পূর্ণ নেভাতে একটু সময় লাগবে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। তদন্ত কমিটি গঠনের পর এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো যাবে।
প্রসঙ্গত, গাজীপুরে চলতি মাসে দুটি ওষুধ কারখানাসহ বাসাবাড়ি, ঝুট ও সুতার গুদামে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। বাসাবাড়িতে আগুনের কারণে সাতজন হতাহত ও বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
এ জন্য অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসনের আরও কঠিন নজরদারি ও গৃহীত নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রতিনিধি/এএইচ