জেলা প্রতিনিধি
২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
ধান উদ্ভাবনের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের চাঁদকুড়িয়া গ্রামের কৃষক সেন্টু কুমার হাজং। নিজ উদ্যোগ, গবেষণা ও দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে তিনি উদ্ভাবন করেছেন ধানের ২৫টি নতুন জাত। এর মধ্যে ২২টি জাতই আমন ধান।
কৃষক সেন্টু কুমার হাজংয়ের ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ নিয়ে ঢাকা মেইলসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) তার বাড়িতে গিয়ে উদ্ভাবিত ধানের জাত ও কৃষি কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক সেন্টুর উদ্ভাবিত বিভিন্ন জাতের ধানের প্রকল্প ঘুরে দেখেন এবং এসব জাত উদ্ভাবনের পেছনে অভিজ্ঞতা, গবেষণা পদ্ধতি ও কৃষি কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান।
সেন্টু কুমার হাজংয়ের কৃষিতে নতুন কিছু করার আগ্রহ তৈরি হয় প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে। এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করা এই কৃষক পরবর্তীতে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে প্রাথমিক কৃষি প্রশিক্ষণ নেন। এরপর বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) অধীনে ব্রিডিং বিষয়ে ১০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান, নিজের অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ কাজে লাগিয়ে ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনের কাজ শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে তার উদ্ভাবিত জাতগুলো স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করে।
সেন্টুর উদ্ভাবিত ধানের জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে চিকন ও মোটা দানার ধান। রয়েছে সোনালি, লালচে ও কালো রঙের দানার বৈচিত্র্য। কোনো জাতের গাছের বৈশিষ্ট্য আলাদা, আবার কোনো জাতের ফলনেও রয়েছে ভিন্নতা।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এসব উদ্ভাবন সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হতে পারে। তৃণমূল পর্যায়ের কৃষকদের এমন সৃজনশীল উদ্যোগকে উৎসাহিত করা এবং বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে কৃষির উন্নয়নে জেলা প্রশাসন কাজ করছে।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার বাইরে একজন কৃষকের এমন উদ্যোগ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি পেলে সেন্টু কুমার হাজংয়ের উদ্ভাবিত জাতগুলো দেশের কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিনিধি/এফএ