Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

সিরাজগঞ্জে ৩ গম্বুজের মসজিদটি মোগল স্থাপত্যের জীবন্ত নিদর্শন

জেলা প্রতিনিধি

২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১১ পিএম

সিরাজগঞ্জের চলনবিল অঞ্চলের তাড়াশ উপজেলার ভদ্রাবতী নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী বারুহাঁস গ্রামের ঐতিহাসিক চৌধুরীবাড়ি জামে মসজিদ। তিনটি গম্বুজ, চুন-সুরকির মজবুত গাঁথুনি, পুরু দেয়াল ও সূক্ষ্ম কারুকাজে মসজিদটি মোগল স্থাপত্যের জীবন্ত নিদর্শন। প্রতিদিনই এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন মুসল্লিরা। শুক্রবার দূরদূরান্ত থেকেও ছুটে আসেন অনেকে। এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংরক্ষণে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয়দের তথ্য মতে, ১৮৭৫ সালে বারুহাঁসের জমিদার দেল মাহমুদ চৌধুরী মসজিদটি নির্মাণ করেন। তবে পরিবারের সদস্যদের মতে নির্মাতা দেলোয়ার হোসেন খান চৌধুরী। জমিদারবাড়ির সামনে, পারিবারিক কবরস্থানের পাশে নদী ও খালবেষ্টিত পরিবেশে এর অবস্থান সৌন্দর্যে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

Sirajgonj_pic__(4)

মসজিদটির প্রধান আকর্ষণ তিনটি গম্বুজ, আটটি পিলারের ওপর তিনটি বড় ও পাঁচটি ছোট মিনার। কাঠের তিনটি দরজা পেরিয়ে ভেতরে চোখে পড়ে নান্দনিক অলংকরণ। চার শতক জায়গার ওপর নির্মিত এই মসজিদে ভেতরে তিন সারিতে প্রায় ৬০ জন এবং বাইরে বারান্দায় আরও দুই সারিতে মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। এখানে একটি কাঠের মিম্বার রয়েছে, যেখানে দাঁড়িয়ে জুমার খুতবা দেওয়া হয়।

দীর্ঘদিন ইমামতি করেছেন মো. খলিলুর রহমান, বর্তমানে তার ছেলে আবদুস সবুর দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ৩১ বছর ধরে খতিব হিসেবে আছেন হাফেজ মাওলানা মো. খবির উদ্দিন। তিনি বলেন, শুক্রবারে দূরদূরান্ত থেকে মুসল্লিরা এখানে নামাজ পড়তে আসেন।

Sirajgonj_pic__(5)

মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. নাছিম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ খন্দকার বলেন, মসজিদটি তাদের গ্রামের ঐতিহ্য ও গর্বের বিষয়। সরকারি অনুদান পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতের কাজ করা সম্ভব হবে।

৮০ বছর বয়সী মুয়াজ্জিন আবদুল লতিফ খন্দকার জানান, তার বাবাও এই মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এটি এলাকার ধর্ম ও ঐতিহ্যের অংশ হয়ে আছে।

Sirajgonj_pic__(1)

জমিদার পরিবারের সদস্য সহকারী অধ্যাপক শাহনেওয়াজ খান চৌধুরী বলেন, মসজিদটি পরিবারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় এবং এর ব্যয় নির্বাহে ১০ বিঘা জমি ওয়াকফ করা আছে। মূল কাঠামো ঠিক রেখে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য কিছু সংস্কার করা হয়েছে।

 

গবেষক খ ম রেজাউল করিম বলেন, দেড়শ বছরের পুরোনো এই মসজিদটি ইতিহাসের নীরব সাক্ষী এবং মোগল আমলের মসজিদের সঙ্গে এর স্থাপত্যশৈলীর মিল রয়েছে।

তাড়াশের ইউএনও নুসরাত জাহান বলেন, ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো আমাদের শিল্পবোধ ও সংস্কৃতির নিদর্শন। বারুহাঁসের তিন গম্বুজ মসজিদটি সংরক্ষণে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থাপনাটির বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে কীভাবে সংরক্ষণ করা যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/টিবি