জেলা প্রতিনিধি
২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে লাউয়ের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। স্থানীয় বিভিন্ন হাট-বাজারে কৃষকের কাছ থেকে এক পিস লাউ মাত্র ২০-২৫ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৫ টাকা দরে কেনা হচ্ছে। অথচ একই লাউ স্থানীয় খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত।
এমন পরিস্থিতিতে অনেক কৃষক লাউয়ের বাগান পরিচর্যা বন্ধ করে দিয়েছেন। কেউ কেউ গাছ কেটে ফেলছেন, আবার কেউ বিক্রি করতে না পেরে লাউ গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন।
কৃষকরা জানান, বর্তমান দর এতটাই কম যে, এক কেজি মোটা চাল কিনতেও তাদের বিক্রি করতে হচ্ছে প্রায় ২০০টি লাউ। আর ৭৫০ টাকা কেজি দরে এক কেজি গরুর মাংস কিনতে প্রয়োজন হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার লাউ বিক্রির টাকা। কৃষকদের কাছে এ যেন ‘শায়েস্তা খানের আমল’ যেখানে পণ্যের দাম একেবারে তলানিতে।
কৃষকদের দাবি, উৎপাদন খরচ বিবেচনায় নিয়ে লাউয়ের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, বাজার ব্যবস্থাপনায় নজরদারি বাড়ানো এবং কৃষক ও ভোক্তার দামের মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যবধান কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় লোকসানের মুখে লাউসহ বিভিন্ন সবজি চাষ থেকে কৃষকরা ধীরে ধীরে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।
আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার কৃষক দুলাল ইসলাম ৪০ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছিলেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। কিন্তু পুরো মৌসুমে লাউ বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার টাকা।

দুলাল ইসলাম বলেন, লাউ চাষ করে আমরা কতটা লোকসানে আছি, তা বলে বোঝানো যাবে না। ২ থেকে ৩ হাজার পিস লাউ বিক্রি করেও এক কেজি গরুর মাংস কেনা যায় না। তাই কষ্ট করে বাগান কেটে ফেলেছি। এখন লাউ গরুকে খাওয়াচ্ছি। আমরা কৃষকরা দাম পাচ্ছি না, অথচ বাজারে প্রতি পিস লাউ ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার ঝলঝলি-উলারচাপ এলাকার লাউ চাষি আনসারুল ইসলাম বলেন, প্রায় ১০ দিন ধরে লাউয়ের বাগানে কোনো পরিচর্যা করছি না। সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ছেই। শ্রমিককে দিনে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দিতে হয়। অথচ লাউ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫ টাকা পর্যন্ত। এ দামে আমাদের পুরো চাষই লোকসান। এভাবে কৃষকের কষ্টের ফসলের দাম না পেলে মানুষ কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সলেমান আলী বলেন, এ বছর আটোয়ারীতে লাউয়ের আবাদ অনেক বেশি হয়েছে। ফলনও হয়েছে ভালো। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। বাইরের বাজারেও লাউয়ের দাম কম থাকায় স্থানীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
তবে কৃষকের কাছ থেকে কম দামে লাউ কেনা হলেও খুচরা বাজারে কেন সেই লাউ কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে- এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কৃষকরা। উৎপাদনকারী ও ভোক্তার মাঝখানে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি তাদের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড় জেলায় বছরে প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ হেক্টর জমিতে লাউয়ের চাষ হয়ে থাকে।
এ বিষয়ে জানতে আটোয়ারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্রতিনিধি/এলএ