Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

মাগুরায় গুলিতে নিহত যুবদল নেতা: দলের নেতাসহ নারী গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি

২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম

মাগুরায় গুলিতে নিহত যুবদল নেতা শাকের হোসেন হত্যায় এক নারী ও যুবদলের ঢাকা মহানগর কমিটির একজন নেতাকে আটকের ঘটনা এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে। পুলিশ এ বিষয়ে কোনো তথ্য না দিলেও তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে। 

বৃহস্পতিবার রাতে ওই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। 

গ্রেফতাররা হলেন- রনি শিকদার (৩৮) ও শামীমা তাবাসসুম (৩১)। এর মধ্যে রনি শিকদার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাগুরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নারী ও যুবদল নেতা গ্রেফতার হওয়ায় হত্যাকাণ্ডের মোটিভ কি হতে পারে তা নিয়ে মাগুরার শহর গ্রামে চায়ের স্টলে চলছে আলোচনা। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাগুরা শহরের তাঁতিপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রনি শিকদারকে আটক করা হয়। এর আধা ঘণ্টা পর সদর উপজেলার বুজরুক শ্রীকুন্টি এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয় শামীমা তাবাসসুম নামে এক নারীকে। বৃহস্পতিবার বিকেলে দুজনকে শাকের হোসেন হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, এ হত্যা ঘটনায় বিভিন্ন সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। সেই সূত্র ধরেই মূলত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য  দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থেই  এর বেশি তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। তবে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।  এ ব্যাপারে তারা আশাবাদী।

গ্রেফতার রনি শিকদারের বড় ভাই রাজীব শিকদার দাবি করেছেন, শাকের হোসেনের সঙ্গে রনির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তার অভিযোগ, বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই রনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।

এর আগে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান শাকের হোসেন। তিনি পরিবহনটির কাউন্টার মাস্টার হিসেবেও কাজ করতেন।

প্রথমে তার মৃত্যুকে স্বাভাবিক বা অসুস্থতাজনিত বলে ধারণা করেন পরিবারের সদস্যরা। এ কারণে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গোসলের প্রস্তুতির সময় মাথার পেছনে ক্ষতচিহ্ন দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন স্বজনরা। পরবর্তী সময়ে সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের সময় তার মাথার খুলির ভেতর থেকে একটি বুলেট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, সম্ভাব্য বিষয় মাথায় রেখে পুলিশের একাধিক টিম তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। দ্রুতই হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করা হবে বলে পুলিশ সুপার আশা প্রকাশ করেন।

প্রতিনিধি/এলএ