জেলা প্রতিনিধি
২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী ‘আদিবাসী’ মিলন মেলা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজার দুই দিন পর উপজেলার গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দিনব্যাপী এই মেলায় যোগ দিতে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী জেলার কয়েক হাজার ‘আদিবাসী’ নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের মানুষ সমবেত হন।
সকাল থেকেই উৎসবে যোগ দিতে আসতে শুরু করে বিভিন্ন এলাকার মানুষ। শিশু, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে প্রবীণ পর্যন্ত— সব বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে উৎসব প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। উৎসবে বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো, যা মিলন মেলাকে রঙিন করে তোলে।
নিজপাড়া ও মোহনপুর ইউনিয়নের আয়োজনে এবং গোলাপগঞ্জ দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই মেলা হয়।
মেলাকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে বহু বছর ধরে একটি গুজব প্রচলিত আছে— এখানে নৃ-গোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা নাকি পছন্দের জীবনসঙ্গী খুঁজে নেন এবং পাত্র–পাত্রীর পছন্দ মিললে বিয়ের আয়োজনও করা হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মেলায় ঘুরতে আসা দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার আদিবাসী তরুণী শেফালী হেমরম বলেন, এই মেলাটা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। প্রতি বছরই আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুদের সঙ্গে এখানে আসি। নানা রকম সাজসজ্জা আর গান-বাজনায় অনেক মজা হয়।
নীলফামারী থেকে আসা মিলন টুডু বলেন, ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি এই মেলার কথা। এখন নিজ চোখে দেখে খুব ভালো লাগছে। এখানে এসে নিজের সংস্কৃতির সঙ্গে আবারও একাত্ম হতে পারি।
হরিপুর থেকে আসা রবিন মার্ডি বলেন, এটা শুধু একটা মেলা না, এটা আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। এত মানুষের সমাগম দেখে গর্ব হয়। প্রতি বছর বন্ধুদের নিয়ে আসি, এখানে দেখা হয় অনেক পুরোনো পরিচিতদের সঙ্গেও।
এ প্রসঙ্গে বীরগঞ্জ ‘আদিবাসী’ সমাজ উন্নয়ন সমিতির আহ্বায়ক যোশেফ হেমরম বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষের হাত ধরেই এই মেলার সূচনা হয়েছিল। সেই ঐতিহ্য ও ধারাবাহিকতা আজও আমরা লালন করছি এবং প্রতি বছর দুর্গাপূজার পরের দিন নিয়মিতভাবে এই মেলার আয়োজন করে আসছি। তবে এখানে বিয়ের আয়োজন সংক্রান্ত যে কথা প্রচলিত আছে, সেটি সঠিক নয়।
মেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী-পুরুষরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে নানাভাবে সেজে আসেন। মাঠজুড়ে বসেছিল পসরা মেলা— বাহারি কাচের চুড়ি, রঙিন ফিতা, লিপস্টিক, কানের দুল, ঝিনুক ও মাটির তৈজসপত্র, খেলনা, দা–কুড়াল, হাঁড়ি–পাতিলসহ নানা রকম গৃহস্থালি সামগ্রী ও স্থানীয় খাবারের দোকান। জিলাপি ও মিষ্টির দোকানের চারপাশে ছিল উপচেপড়া ভিড়।
প্রতিনিধি/এলএ