Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

পাবনায় ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক আটক, মাদরাসায় আগুন

জেলা প্রতিনিধি

২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০২ পিএম

‎পাবনা সদর উপজেলায় একটি মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এসময় উত্তেজিত জনতা মাদরাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে উত্তেজিত জনতা মাদরাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।

এর আগে, সকালে উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের দড়িভাউডাঙ্গা গ্রামে নুরে মদিনা মহিলা কওমি মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত আবু ইউসুফ পাবনা সদরের সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের। তিনি ওই মহিলা মাদরাসার পরিচালক ছিলেন। দেড়শ মেয়ে শিক্ষার্থীর দ্বারা পরিচালিত মাদরাসাটি।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে ফজরের আজানের আগ দিয়ে এক ছাত্রী শৌচাগারে যাওয়ার জন্য কক্ষ থেকে বের হলে শিক্ষক ইউসুফ তাকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত শিক্ষক পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

‎ওই ছাত্রীর অভিযোগ, এর আগেও তাকে একাধিকবার অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ জন্য চেতনানাশক পদার্থ ব্যবহার করা হতো বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনার পর তাকে জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ খাওয়ানো হতো। মাদ্রাসার অন্য কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হতো। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ওই ছাত্রী।

‎এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন মাদরাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের থাকার বাড়িতে ভাঙচুর এবং আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগও তুলেছেন নিহতের স্বজনেরা।

‎পাবনা পুলিশ সুপার আশরাফ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। 

প্রতিনিধি/ এজে