জেলা প্রতিনিধি
২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৪ এএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে থানায় ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ওসিকে উদ্দেশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি স্যার। যাই হোক, সেটা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সদ্য সমাপ্ত শারদীয় দুর্গাপূজার সময় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গেলে রুমিন ফারহানার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছিল। তবে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে এবং ওসির বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে থানায় যান রুমিন ফারহানা। রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি ওসির কক্ষে ছিলেন।
এ সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে যাওয়া এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ওসি তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। তবে ওসি এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। ওই ব্যক্তিকে রুমিন ফারহানা শিখিয়ে থানায় এনেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাদানুবাদ হয়।
আরও পড়ুন: দুর্গার আদলে রুমিন ফারহানার ছবি, ২২ বচন ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা
রুমিন ফারহানার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, সংসদ সদস্য শত শত লোক নিয়ে থানায় এসে অস্থিরতা তৈরি করেন। কিছু লোককে শিখিয়ে আজেবাজে কথা বলার জন্য নিয়ে আসেন। তিনি আরও বলেন, রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেছেন, তিনি ইটভাটা থেকে টাকা নেন। অথচ হাওরে সব ইটভাটা পানির নিচে। পূজার সময় পুরো থানা এলাকায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে ব্যক্তিগতভাবে রুমিন ফারহানার সঙ্গে পুলিশের একটি দল রাখা তখন কঠিন ছিল।
অন্যদিকে, রুমিন ফারহানা বলেন, ওসি তাকে বলেছেন, তিনি নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং মানুষই তার নিরাপত্তা দেবে। এ কারণেই মানুষ তাকে নিরাপত্তা দিচ্ছে। তবে তার নিজের নিরাপত্তা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটা এবং ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, এলাকাটি দাঙ্গাপ্রবণ। দাঙ্গা হওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত হলে পুলিশ সেখানে যায়। এসব বিষয় জানতেই তিনি থানায় গিয়েছিলেন। ওসি তার সঙ্গে যে আচরণ করেছেন, তা একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সঙ্গে করা উচিত নয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মু. জালাল উদ্দিন ফাহিমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।