জেলা প্রতিনিধি
২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী শরীফুল ইসলাম শরীফের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শরীফুল ইসলাম শরীফসহ অন্তত ছয়জন আহত হন।
ভুক্তভোগীর দাবি, তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তার ওপর হামলা চালানো হয়।
গত বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার মিরপুর নতুন বাজারে যাওয়ার পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তার স্বজনরা। আহত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন হাজী সাহেদ মিয়া, হেলাল উদ্দিন ও সেলিম। আহতদের প্রথমে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, এর আগে তার ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছিল। বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে আজ (২২ অক্টোবর) রাতে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
শরীফুল ইসলাম শরীফের অভিযোগ, মিরপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বশির মোল্লাসহ একটি পক্ষ নিষিদ্ধ ড্রেজারের মাধ্যমে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছিল। এ ঘটনায় নবীনগরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিযান চালিয়ে ড্রেজারের সরঞ্জাম জব্দ করেন এবং কিছু সরঞ্জাম নষ্ট করা হয়। ওই ঘটনার জেরে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় কাদির মোল্লার নেতৃত্বে আলী আজ্জম, বশির মোল্লা, ইব্রাহিম ও হানিফ মোল্লাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন শরীফ।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শরীফুল ইসলাম শরীফের বড় ভাই ফরহাদ হোসেন বলেন, তার ছোট ভাই এলাকার সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত এবং মানুষের উপকারে কাজ করতে আগ্রহী। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেও তার নাম আলোচনায় রয়েছে।
ফরহাদ হোসেনের অভিযোগ, ব্যবসায়িক বিরোধের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিরোধ ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারের বিষয়ও হামলার পেছনে থাকতে পারে। তার দাবি, তার ভাইকে হত্যার উদ্দেশে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, আল্লাহর ইচ্ছায় আমার ভাই বেঁচে আছেন। আপনারা সবাই দোয়া করবেন, যেন তাকে সুস্থ অবস্থায় আবার আমাদের মাঝে ফিরে পাই।
শরীফুল ইসলাম শরীফের সমর্থক মিজান মিয়া বলেন, শরীফ মানুষের উপকার করতে ভালোবাসে, কারও ক্ষতি করতে নয়। শরীফ সম্পর্কে জানতে হলে সাংবাদিকেরা পুরো গ্রামে ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। তিনি কারও সঙ্গে মারামারি চান না। তার ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং আমরা ন্যায়বিচার চাই।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদুল আলম চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। শিবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে (আইসি) তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এলএ