জেলা প্রতিনিধি
২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মায়ের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে মারা গেছেন বড় ছেলে সৈয়দ মেজবাউর রশিদ সুমন (৫৫)। মায়ের মৃত্যুর মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ছেলের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে একই মাঠে মা ও ছেলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁদের পাশাপাশি পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।
মারা যাওয়া মা হলেন সৈয়দা মাজেদা খাতুন (৭৫)। তিনি ফুলবাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জিএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ক্রীড়া শিক্ষক সৈয়দ আবুল মাহমুদ (চাঁদ)-এর স্ত্রী। তাঁর বড় ছেলে সৈয়দ মেজবাউর রশিদ সুমন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বারোকোনা গ্রামে নিজ বাসভবনে মারা যান সৈয়দা মাজেদা খাতুন। মায়ের মৃত্যুর খবর শুনে শোকে ভেঙে পড়েন ছেলে সুমন। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত ১১টার দিকে তাঁকে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বারোকোনা গ্রামের বাসিন্দা রজব আলী জানান, মায়ের মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকেই সুমন শোকে মাতম করছিলেন। বিকেল থেকে তিনি বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছিলেন। রাতে একপর্যায়ে পুরোপুরি অচেতন হয়ে গেলে তাঁকে দ্রুত ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বারোকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মা ও ছেলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁদের পারিবারিক গোরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়।
জানাজায় আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ছাড়াও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি, সাবেক পৌর মেয়র মাহমুদ আলম লিটন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহম্মেদ চৌধুরী খোকন, তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখার আহ্বায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
প্রতিনিধি/ এজে