জেলা প্রতিনিধি
২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
নির্দিষ্ট রঙের ভেস্ট পরে মহাসড়ক ও বিভিন্ন সড়কে টহল দেন একদল তরুণ। বিশেষ করে গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করতে তাদের এই উদ্যোগ। ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ রেভল্যুশন’ নামের সংগঠনের ব্যানারে গত দেড় বছরে গাজীপুরের টঙ্গীতে ২৫০ জন ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি করেছেন সংগঠনটির সদস্যরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, তরুণদের এ তৎপরতায় এলাকায় ছিনতাই ও চুরির মতো অপরাধ কমেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টঙ্গীর স্টেশন রোড, হোসেন মার্কেট, কলেজ গেট, আবদুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড, সাতাইশ, কেরানীরটেক ও হাজী মাজার বস্তিসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও গভীর রাতে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে অনেকে মূল্যবান জিনিসপত্র হারান। কখনো কখনো এসব ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।
এমন পরিস্থিতিতে অপরাধ প্রতিরোধে ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ ইয়ুথ রেভল্যুশন। শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত সংগঠনটির সদস্যরা ছিনতাই, মাদক সেবন ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। নির্দিষ্ট পোশাক পরে তারা পালা করে বিভিন্ন এলাকায় টহল দেন। পুলিশের সঙ্গেও অভিযানে অংশ নেন। স্বেচ্ছাশ্রমে পরিচালিত সংগঠনটিতে বর্তমানে ২৫০ জন সদস্য কাজ করছেন।

টঙ্গী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ ইয়ুথ রেভল্যুশনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ফাহাদ ইসলাম ফুয়াদ বলেন, ছিনতাই, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তারা কাজ করেন। কাউকে অপরাধে জড়িত অবস্থায় আটক করলে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। সংগঠনের সদস্যরা স্বেচ্ছায় পালা করে বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন।
সংগঠনটির ফেসবুক পেজের অনুসারী ৫৪ হাজার। ছিনতাইকারী, মাদকসেবী ও মাদক কারবারি হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের আটক করার ভিডিও নিয়মিত ওই পেজে প্রকাশ করা হয়।
তবে সংগঠনটির নিবন্ধন না থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তরুণদের এমন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। এ বিষয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সবুজ উদ্দিন ইকবাল বলেন, নিবন্ধনের জন্য তারা জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন। পুলিশ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়ে অপরাধ প্রতিরোধে কাজ চালিয়ে যেতে চান তারা। তার দাবি, সংগঠনের সদস্যরা বিতর্কিত কোনো কর্মকাণ্ডে বা রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট কাজে জড়িত নন।

সবুজ উদ্দিন ইকবাল আরও বলেন, অপরাধ প্রতিরোধে তাদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ রয়েছে। এতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা যুক্ত আছেন। সংগঠনের সদস্যদের দেওয়া তথ্য তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সংগঠনটির তৎপরতায় ছিনতাই ও মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধ কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযানও চলছে।
টঙ্গীর কলেজ গেট এলাকায় বাদাম বিক্রেতা সোহেল বলেন, ছিনতাইকারীদের ভয়ে আগে সন্ধ্যার পর একা চলাচল করতে ভয় পেতেন। এখন তরুণদের তৎপরতায় তারা কিছুটা স্বস্তি বোধ করছেন। ছিনতাইকারীরা জানে, তাদের ধরতে প্রশাসনের পাশাপাশি তরুণেরাও সক্রিয় রয়েছেন।
টঙ্গীর বাসিন্দা আবুল বাসেত বলেন, টঙ্গী বাজার ও বিআরটি ফ্লাইওভারের বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই ছিনতাই হয়। ছিনতাইকারীদের হামলায় অনেকে আহত হয়েছেন, খুইয়েছেন মূল্যবান জিনিসপত্র। রাত বাড়লে ছিনতাইয়ের ভয়ে নারীদেরও চলাচলে আতঙ্ক কাজ করত। তার ভাষ্য, ইয়ুথ রেভল্যুশনের তৎপরতায় অপরাধ কিছুটা কমেছে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা পুলিশের দায়িত্ব। তবে এ কাজে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। জনগণের সচেতনতা ও সহায়তা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন। ইয়ুথ রেভল্যুশনের সদস্যরা পুলিশকে সহযোগিতা করে সুনাগরিকের দায়িত্ব পালন করছেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত নয় মাসে গাজীপুর মহানগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের চার থানায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১৭৫টি মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৯৬৬ জনকে। একই সময়ে মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত ৫৬৮টি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৮৩৯ জনকে।
প্রতিনিধি/এসএস