জেলা প্রতিনিধি
২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
টানা পূজা-অর্চনা ও উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ভক্তরা বিদায় দিয়েছেন দেবী দুর্গাকে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পরে বিজয়া দশমীতে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে শোভাযাত্রা করে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের।
দশমীর আনুষ্ঠানিকতায় দেবীকে বিদায় জানাতে সকাল থেকেই পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্তদের উপস্থিতি ছিল। পূজা ও পুষ্পাঞ্জলি শেষে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি নেন আয়োজকরা। পরে ঢাক-ঢোল, কাঁসর-ঘণ্টার বাদ্য এবং শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে প্রতিমাগুলো বিসর্জন ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের মধ্যে বিষাদের আবহ তৈরি হয়। আগামী বছর আবারও দেবী দুর্গার আগমনের প্রত্যাশায় তারা প্রার্থনা করেন শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গলের।
পাঁচ নং ঘাট এলাকায় প্রতিমা বিসর্জন দেখতে আসা নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তি বলেন, দশমীর লগ্ন শুরু হয়ে যাওয়া মানেই মন খারাপের শুরু। খুব কষ্ট লাগছে, মা চলে যাচ্ছেন। এই কয়েক দিন মা ছিলেন, তাই আনন্দে কেটেছে। মায়ের কাছে চাওয়া, মা যেন এ দেশ থেকে সব ধরনের অপশক্তি দূর করে দেশকে শান্তিময় করেন। সবাইকে ভালো রাখেন।
আরেক ভক্ত প্রমা রানী জানান, এই কয়েকটা দিন ছিল খুবই আনন্দের। মা দুর্গা তাদের মাঝে ছিলেন, তাই চারপাশ আনন্দে ভরে উঠেছিল। কিন্তু আজ মা চলে যাচ্ছেন, সেই কষ্টে বুকটা ভরে উঠছে। আবারও এক বছর মায়ের আসার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এবারের পূজায় তিনি বিশেষ প্রার্থনা করেছেন, যেন দেশ শান্তিময় হয় এবং সবার জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি নেমে আসে।
এদিকে প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শোভাযাত্রার জন্য নির্ধারণ করা হয় নির্দিষ্ট পথ। কয়েকটি সড়কে একমুখী যান চলাচল চালু রাখার পাশাপাশি বাস ও পণ্যবাহী যান চলাচলেও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষ্যে বুধবার দুপুর ২টার পর আঞ্চলিক ও দূরপাল্লার বাস চাঁদমারী মোড় থেকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। ওই মোড় অতিক্রম করে কোনো বাসকে মেট্রো হলের সামনের মোড়, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল কিংবা বঙ্গবন্ধু সড়কের দিকে যেতে দেওয়া হয়নি। বাস পার্কিংয়ের জন্য বিকল্প স্থান হিসেবে হাজীগঞ্জ নতুন রাস্তা নির্ধারণ করা হয়। বাস টার্মিনালের আঞ্চলিক বাস এবং মেট্রো হল মোড়ের দূরপাল্লার বাস সেখানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। নিতাইগঞ্জ এলাকা থেকে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও ট্যাংকলরি বৃহস্পতিবার রাত ১টার আগে মণ্ডলপাড়া সেতু পার হতে পারবে না।
নারায়নগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদি জানান, প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে তিনটি নির্দিষ্ট পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। পঞ্চবটী থেকে আসা শোভাযাত্রাকে চাষাঢ়া ও ২ নম্বর রেলগেট হয়ে বিসর্জন ঘাটে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিতাইগঞ্জ ও টানবাজারের শোভাযাত্রা মণ্ডলপাড়া সেতু পেরিয়ে ২ নম্বর রেলগেট দিয়ে ঘাটে পৌঁছানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে বরফকল মাঠ ও খানপুর থেকে আসা শোভাযাত্রাকে মেট্রো হল মোড়, মিশনপাড়া ও চাষাঢ়া হয়ে ২ নম্বর রেলগেট দিয়ে বিসর্জন ঘাটে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিসর্জন শেষে খালি যানবাহন ঘাট থেকে কাঠপট্টি রোড ও মাউরা হোটেল হয়ে মেট্রো হল মোড় দিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরতে পারবে। এ সময় ঘাট থেকে মাউরা হোটেল হয়ে মেট্রো হল পর্যন্ত সড়কে একমুখী যান চলাচল কার্যকর রাখা হয়েছে। মেট্রো হল মোড় থেকে মাউরা হোটেল কিংবা কালীবাজারের দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় ২ নম্বর রেলগেট থেকে ১ নম্বর রেলগেট হয়ে বিসর্জন ঘাট পর্যন্ত এবং ১ নম্বর রেলগেট থেকে কালীবাজারমুখী সড়কে একমুখী যান চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়। শহরের চাঁদমারী, সরকারি মহিলা কলেজ, মেট্রো হল, গলাচিপা মোড় ও মণ্ডলপাড়া সেতু এলাকায় ছয় আসনের বড় আকারের অটোরিকশার ইউটার্নের ব্যবস্থা চালু করেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন। করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সিটি করপোরেশন।কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দশমী উদযাপন করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।
প্রতিনিধি/ এজে