Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

বেদনা আর আনন্দের মধ্য দিয়ে ফেনীতে প্রতিমা বিসর্জন

জেলা প্রতিনিধি

২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম

উলুধ্বনি, শাঁখ আর ঢাকের বাদ্যে মুখরিত ফেনীর কালিপাল দশমী ঘাট। মঙ্গলধ্বনির সঙ্গে থেকে থেকে শোনা যাচ্ছে হাজার মানুষের আহ্বান ‘আসছে বছর আবার হবে, মা, তুমি আবার এসো’।

বিজয়া দশমী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফেনী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইদুল ইসলাম ও নিশাত তাবাসসুম, ফেনী পৌরসভার প্রশাসক নুরুদ্দিন মোহাম্মদ শিবলী।

ফেনী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সমীর করের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন ফেনী জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শুকদেব নাথ তপন, ফেনী জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শান্তি রঞ্জন চৌধুরী, ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরিন কান্তা।

২১ অক্টোবর বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরো ফেনীর কালী পালের দশমী ঘাট যেন এক মহা উৎসবে রূপ নিয়েছে। এর আগে ‘ধান-দুর্বার দিব্যি, মা, তুমি আবার এসো,’... বাঙালি হিন্দু ভক্ত কণ্ঠের এমন আকুতির ভেতর প্রতিমা বিসর্জনে বিদায় হলো দেবী দুর্গার। শান্তিজল গ্রহণে আড়ম্বরেই শেষ হলো বাঙালি হিন্দুদের সাংবৎসরিক সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ছয় দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের দশমীতে বুধরার মণ্ডপে মণ্ডপে বিহিতপূজার মধ্য দিয়ে ঘটে সমাপ্তি। অতঃপর দেবীর বিসর্জন আর শান্তিজল গ্রহণ। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, টানা ছয়দিন মাটির প্রতিমারূপে মণ্ডপে মণ্ডপে থেকে দুর্গা ফিরে গেছেন কৈলাসে স্বামী শিবের সান্নিধ্যে। সকালে বিহিত পূজার পর ভক্তের কায়মনো প্রার্থনা- অন্যায় অসত্য থেকে নিষ্কৃতি পাক এই পৃথিবী।

অসাম্প্রদায়িক চেতনায় জাগরূক হোক সব মানুষ। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতিবাদে এবার কাঙ্ক্ষিত সিঁদুর খেলা থেকে বিরত ছিলেন হিন্দু রমণীরা। একদিকে বিদায়ের বেদনা, অন্যদিকে উৎসব আনন্দে দেবীকে বিদায় জানান ভক্তরা।

বিকেল ৪টার পর থেকে ফেনীর কালীপালের দশমী ঘাটে দেবী দুর্গার বিসর্জন শুরু হয়। ফেনী কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির থেকে আসা পূজা কমিটির প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবীকে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর অন্যান্য পূজামন্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

অশুভ শক্তি থেকে মুক্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিসহ সব ধরনের মঙ্গল কামনা ও অশুভকে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে প্রতিমা বিসর্জন করা হয়। মঙ্গলধ্বনি, উলুধ্বনি, শাঁখ আর ঢাকের ধ্বনিতে দেবী প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। আবারও মঙ্গলবার্তা নিয়ে আগামী বছর যেন মা দুর্গা আগমন করেন বিসর্জনকালে সেই প্রার্থনা করেন ভক্তরা।

এবছর জেলায় ১৫৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।

ফেনী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সমীর কর বলেন, মা দেবী দুর্গা যেন অশুভ শক্তির বিনাশ করে সবাইকে ভালো রাখেন। পাশাপাশি তিনি যেন দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালনের মধ্যদিয়ে পুরো পৃথিবীকে আলোকিত করেন। এমনটাই আমার প্রার্থনা।  

প্রতিনিধি/ এজে