Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

ফরিদপুরে পিবিআইয়ের হাতে ‘জিনের বাদশা’ চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি

২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

কখনো ‘জিনের বাদশা’, কখনো তান্ত্রিক-কবিরাজ, আবার কখনো পরিচিত ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ক্লোন করে কম দামে চাল বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করত একটি চক্র। এভাবে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ফরিদপুর। গ্রেফতার ব্যক্তিরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

পিবিআই ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, এই চক্রের প্রতারণার শিকার হন রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ সকালে তার পরিচিত বিজয় বাবুর মোবাইল নম্বর ক্লোন করে চক্রের এক সদস্য তাকে ফোন করেন। ফোনে ৩৩ টন চাল কম দামে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরিচিত ব্যক্তির নম্বর থেকে ফোন আসায় এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকায় রশিদুল বিষয়টি সন্দেহ করেননি।

একপর্যায়ে জরুরি প্রয়োজনে টাকা লাগবে জানিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে বিভিন্ন নম্বরে কয়েক দফায় টাকা পাঠাতে বলা হয় তাকে। এভাবে তার কাছ থেকে মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। পরে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাল না পেয়ে এবং প্রকৃত বিজয় বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন ওই ব্যবসায়ী।

পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় প্রথমে স্থানীয় থানায় মামলা করা হয়। তবে প্রায় আট মাসেও প্রতারণার রহস্য উদ্‌ঘাটন না হওয়ায় বাদী আদালতে নারাজি আবেদন করেন। পরে আদালত মামলাটির তদন্তভার পিবিআই ফরিদপুরকে দেন।

পিবিআই ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মাজিদুল হক খানের তদন্তে মামলাটির রহস্য উদ্‌ঘাটনে কাজ শুরু হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও আর্থিক লেনদেনের গতিপথ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা চক্রটির সন্ধান পান। পরে ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতারণার জন্য চক্রটি একাধিক কৌশল ব্যবহার করত। ভুয়া পরিচয়ে মোবাইল সিম নিবন্ধন করে ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করত তারা। টাকা আদায়ের পর ব্যবহৃত সিম ফেলে দিয়ে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার চেষ্টা করত।

চক্রটির সদস্যরা কখনো গভীর রাতে নারীদের ফোন করে নিজেদের ‘জিনের বাদশা’ পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখাত। কখনো তান্ত্রিক বা কবিরাজ সেজে গোপন রোগ নিরাময়ের প্রলোভন দিত। পাশাপাশি পরিচিত ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ক্লোন করে কম দামে চাল বিক্রির প্রস্তাব দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও টাকা আদায় করত তারা।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চক্রটিতে প্রায় পাঁচজন সদস্য রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ ফোন করে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলত, কেউ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) নম্বর সরবরাহ করত। অন্য সদস্যরা বিভিন্ন এলাকা থেকে টাকা তুলে সংগ্রহ করত।

পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিরা আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে প্রতারণার বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। সন্দেহজনক ফোনকল, ভুয়া পরিচয় ও অস্বাভাবিক লাভের প্রলোভন থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রতিনিধি/এসএস