জেলা প্রতিনিধি
২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৩ এএম
জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন না করলে সরকারকে রাজনৈতিক বিপদে পড়তে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বরিশাল অঞ্চল টিমের সদস্য ফখরুদ্দিন খান রাজি।
তিনি বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ রায় দিয়েছেন। সেই রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে ধোঁকা ও প্রতারণা করছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলো ঝালকাঠি শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা আমির নির্বাচন উপলক্ষে দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ফখরুদ্দিন খান রাজি বলেন, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জুলাই সনদ কার্যকর করতে হবে। সংবিধান সংশোধনের নামে সনদের মূল উদ্দেশ্য পাশ কাটানোর কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলিল। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল দল-মত, শ্রেণি ও পেশার বিভেদ অতিক্রম করে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ। ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অবসান এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে আকাঙ্ক্ষা বিপ্লবের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে, জুলাই সনদ তার রাজনৈতিক প্রতিফলন। জনগণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে উত্থাপিত রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি বাস্তবায়ন করাই এখন সময়ের প্রত্যাশা।
রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন প্রস্তাবের বিষয়ে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলোতে বিএনপির ভিন্নমত রয়েছে। সনদে স্বাক্ষরের সময় সংযুক্ত ব্যাখ্যা ও ফুটনোটের মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারের ওপর নির্ভরশীল করায় সনদের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ ধরনের শর্ত রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে জনগণের অভিপ্রায়কে দুর্বল করতে পারে।
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে ফখরুদ্দিন খান রাজি বলেন, সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটের মধ্য দিয়ে জনগণ পৃথক দুটি বিষয়ে তাদের মতামত জানিয়েছে। সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, গণভোটে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার মধ্য দিয়ে সরকার গঠন ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে ভিন্ন অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ঝালকাঠি জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট বিএম আমিনুল ইসলাম ও সেক্রেটারি অধ্যক্ষ ফরিদুল হক। এ সময় জেলার চার উপজেলার রুকনরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে গোপন ভোটের মাধ্যমে ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য ঝালকাঠি জেলা জামায়াতের আমির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের ফল কেন্দ্র থেকে সারা দেশের ফলাফলের সঙ্গে একযোগে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান।
প্রতিনিধি/আরআর