Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি, পরে হোটেলকক্ষে মিলল শিক্ষকের মরদেহ

জেলা প্রতিনিধি

২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আবুল বাশার তালুকদার (৪০) নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত্যুর আগে তার মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রীকে কল করে চিকিৎসার কথা বলে দুই হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। টাকা না দিলে তার মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি স্বজনদের। এ ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ভেদরগঞ্জ থানা ব্রিজসংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেলের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে হোটেলটির মালিক আতাউর রহমান হোসেন পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

নিহত আবুল বাশার তালুকদার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার দেউলিয়াবাড়ি গ্রামের মৃত জোনাব আলী তালুকদারের ছেলে। তিনি গাজীপুর সদর উপজেলার ৮২ নম্বর খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

bf2f9e82-5197-4097-b00a-30c1c4855b67

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ অক্টোবর সকালে গাজীপুরের নিজ বাড়ি থেকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়নে দাদার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন আবুল বাশার। পরে তার মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রীকে কল করে চিকিৎসার কথা বলে দুই হাজার টাকা দাবি করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, তার স্ত্রী ফোনে তার অবস্থান জানতে চান এবং সেখানে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা বলেন। তবে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো অবস্থান জানানো হয়নি। একপর্যায়ে ওই মোবাইল ফোন থেকে তাকে শুয়ে থাকা অবস্থায় একটি ছবিও পাঠানো হয়। টাকা না দিলে তার মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ স্বজনদের।

এরপর পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার ফোন করলেও আর কেউ কল রিসিভ করেননি। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে তারা গাজীপুরের স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করেন। পরে মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্তের সূত্র ধরে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে তার অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। বিষয়টি ভেদরগঞ্জ থানা-পুলিশকে জানানো হলে ঢাকা আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

26a9ca5e-62fa-4a1d-86ab-39a191908e27

নিহতের ভাগিনা কবির হোসেন জানান, তার মামা রোববার সকালে গাজীপুর থেকে শরীয়তপুরে দাদার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। রোববার থেকে তিনি বন্ধুর বাড়িতে আছেন বলে জানানো হচ্ছিল। তবে সোমবার তার মামার মোবাইল ফোন থেকে অন্য একজন দুই দফায় চিকিৎসার কথা বলে টাকা দাবি করেন।

কবির হোসেন বলেন, টাকা না দিলে মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরে ভেদরগঞ্জের ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে তার মামার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার জানান, ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশার তালুকদার নামে এক শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অপরাধস্থল পরিদর্শন ও তদন্তের জন্য একটি ক্রাইম সিন তদন্ত দল আসবে। তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে আবুল বাশার তালুকদারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোন থেকে টাকা দাবির ঘটনায় কারা জড়িত, কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এবং হোটেলমালিকের পলাতক থাকার সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের পর জানা যাবে।

প্রতিনিধি/এসএস