Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

পণ্য কিনতে রাজশাহী যাচ্ছিলেন, ফিরলেন লাশ হয়ে

জেলা প্রতিনিধি

২০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪১ পিএম

ব্যবসার কাজে রাজশাহীর তাহেরপুরে যাচ্ছিলেন তারা। উদ্দেশ্য ছিল ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়াসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কিনে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই থেমে যায় তাদের পথচলা। নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাঁচ ব্যবসায়ী। তাদের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে দুর্ঘটনার খবর জাজিরায় পৌঁছালে নিহত ব্যক্তিদের পরিবার ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়।

নিহত পাঁচজন হলেন জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দি এলাকার জহির উদ্দিন মাদবরের ছেলে জুয়েল মাদবর, ডুবিসায়বর মোল্যাকান্দি এলাকার জাহান উদ্দিন মোল্যার ছেলে সালাল মোল্যা, ডুবিসায়বর কাজিরহাট এলাকার ইউনুস শিকদারের ছেলে সোহাগ শিকদার, কাজিরহাট এলাকার ভুসামাল ব্যবসায়ী সামাদ ফকির এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার রাজ্জাক ব্যাপারীর ছেলে হলুদ ব্যবসায়ী শাহিন ব্যাপারী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত পাঁচজনই দীর্ঘদিন ধরে জাজিরার কাজিরহাট ও আশপাশের এলাকায় ব্যবসা করতেন। বিভিন্ন স্থান থেকে পণ্য কিনে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতেন তারা। এরই অংশ হিসেবে কৃষিপণ্য কেনার জন্য একসঙ্গে রাজশাহীর তাহেরপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।

নিহত জুয়েল মাদবর ভুসামালের ব্যবসার পাশাপাশি কাজিরহাটে রড-সিমেন্টের ব্যবসাও করতেন। সামাদ ফকির ভুসামালের ব্যবসায়ী ছিলেন। আর শাহিন ব্যাপারী যুক্ত ছিলেন হলুদের ব্যবসায়। সালাল মোল্যা ও সোহাগ শিকদারও একই ধরনের পণ্য কেনাবেচা করতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

একই এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী হওয়ায় তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল। ব্যবসার কাজে একসঙ্গে রাজশাহীর পথে যাত্রা করেছিলেন তারা। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠল জীবনের শেষ যাত্রা।

পাঁচ ব্যবসায়ীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শোকাহত হয়ে পড়েন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পরিচিত মানুষগুলোর এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তাদের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

কাজিরহাটের ব্যবসায়ী দিদার সরদার বলেন, ‘ব্যবসার কারণে তাদের সবার সঙ্গেই আমার পরিচয় ছিল। তাদের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক ছিল। তাদের এমন মৃত্যুর খবর খুবই কষ্টদায়ক।

আরও পড়ুন

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪

এর আগে মঙ্গলবার ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকার নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ দুর্ঘটনায় মোট ১৪ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও উদ্ধারকর্মীরা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। পরে তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে জাজিরার পাঁচ ব্যবসায়ীও রয়েছেন।

এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহম্মেদ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্ঘটনার বিষয়টি জেনেছি। তবে এখনো নাটোরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। মরদেহ জাজিরায় নিয়ে আসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ব্যবসার প্রয়োজনে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পাঁচ ব্যবসায়ীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকাহত তাদের পরিবার ও স্বজনেরা। শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলেও।

প্রতিনিধি/এসএস