ঢাকা মেইল ডেস্ক
১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা যুগে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব পালন করতে পারেনি। চরম উদ্বেগ উৎকন্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে তাদের দিন কেটেছে।
আওয়ামী লীগের সোনার ছেলেদের বর্বরোচিত হামলা ও বীভৎসতার আতঙ্কে সনাতন ধর্মালন্বীরা তটস্থ থেকেছে। একমাত্র বিএনপি যখন ক্ষমতায় থাকে, সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সবাই নির্বিঘ্নে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করতে পারে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজার অষ্টমীতে দাউদকান্দি পৌর সদরে শ্রী শ্রী গোপীনাথ জিউর আখড়া, উত্তর সতানন্দি, সাহাপাড়া এবং সুন্দলপুর ও গোয়ালমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে পৃথক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এইসব কথা বলেন।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ ড. খন্দকার মারুফ হোসেনকে বিপুল ভালোবাসা ও ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করেন।
তিনি (খন্দকার মারুফ) সমাবেশে পূজারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, দুর্গোৎসবকে আনন্দময় ও নিরাপদ করতে সরকার আন্তরিক। নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসীদের সহিংসতা প্রতিরোধ করতে পুরো এলাকা কঠোর নজরদারিতে রাখতে সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছে। আপনারা নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে উৎসব পালন করুন। কোনো শঙ্কা নেই।
বিএনপি নেতা ড. মারুফ সমাবেশগুলোতে বলেন, বিএনপির সংবিধানে সংখ্যালঘু বলতে কোনো শব্দ নেই। জাতিসত্ত্বার পরিচয় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সনাতন ধর্মাবলম্বী, বৌদ্ধ, খৃষ্টান, উপজাতিসহ সকলে সমান অধিকার ভোগ করবে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে এইসব ধর্মের মানুষ সেই নাগরিক অধিকার থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত ছিল। সংখ্যালঘু তকমা দিয়ে তাদের ওপর নির্মম জুলুম নিপীড়ন চালিয়েছে। পূজামণ্ডপে হামলা ও চাঁদাবাজি করেছে।
খন্দকার মারুফ বলেন, দুর্গাপূজা হচ্ছে, বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। যা মূলত অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ ও সত্যের বিজয়ের প্রতীক। দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান নয়, এটি তাদের মহামিলনের উৎসব। দেবী দুর্গা মহাশক্তির প্রতীক। মহিষাসুর বধের মধ্যদিয়ে যেমন অশুভ শক্তির পতন ঘটেছিল, তেমনি আমাদের মধ্যেও যেন সকল অন্যায়, ভেদাভেদ ও অকল্যাণ দূর হয়, আজকে এই শুভকামনা করছি।
তিনি বলেন, মহালয়া থেকে শুরু করে দশমী পর্যন্ত দিনগুলোতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ আনন্দ ভাগ করে নেয়। পূজামণ্ডপগুলো হয়ে ওঠে সম্প্রীতি ও মিলনের কেন্দ্রবিন্দু। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির সমাজ গড়ে তুলি। সকলের জীবনে শারদীয় দুর্গোৎসব বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও আনন্দ।
এর আগে সকালে বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মারুফ হোসেন ডেঙ্গুরোগ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনা সৃষ্টির জন্য দাউদকান্দি পৌরসভা সদরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
এই সময় তিনি বলেন, এডিস মশার সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সকলেই বাড়ির আঙ্গিনা, ফুলের টব, ছাদ বাগান পরিষ্কার রাখতে হবে। এই ভয়াবহ রোগ থেকে সুরক্ষা পেতে সামাজিক সচেতনতার বিকল্প নেই।
মশক নিধন অনুষ্ঠান ও পূজামণ্ডপে উপস্থিত ছিলেন- দাউদকান্দির ইউএনও মো. জাকির হোসেন, এসিল্যান্ড নাহিদ আহমেদ, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক এম.এ লতিফ ভূইয়া, দাউদকান্দি পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, বিএনপি নেতা পিটার চৌধুরী, আবদুস সাত্তার, কাউসার আলম সরকার, আরিফ মাহামুদ, শরীফ চৌধুরী, রোমান খন্দকার প্রমুখ।
প্রতিনিধি/এলএ