Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

‘আজ থেকে এ গল্প শেষ’: দুই শিশুসহ মায়ের রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামীসহ আটক ৩

জেলা প্রতিনিধি

১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম

ঘরের দেয়ালে কচুগাছ দিয়ে লেখা, ‘আজ থেকে এই গল্প শেষ।’ ঘরে বিছানায় পড়ে আছে দুই শিশুর নিথর মরদেহ। আর ঘরের ধর্ণায় ওড়না দিয়ে ঝুলছে নারীর মরদেহ। এমনই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের মোস্তফাপুর বালুপাড়ায়।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিজের দুই শিশুসন্তানকে হত্যার পর ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, নিহত নারীর স্বামী প্রায়ই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাকে মারধর করতেন। 

এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের স্বামীসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

রোববার রাত ১২টার দিকে পুলিশ ঘর থেকে দুই শিশুসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী শাকিল হোসেন (২৬), তার শ্বশুর মাহাতাব উদ্দীন (৫০) ও শাশুড়ি রজমত আলা তারাবিবিকে (৪২) আটক করা হয়।

নিহতরা হলেন- শাকিল হোসেনের স্ত্রী স্বর্ণা বেগম (২০), তাদের দুই বছরের ছেলে সাফায়াত হোসেন ও নয় মাসের মেয়ে রাইফা জুরাইনা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শাকিল হোসেনের সঙ্গে পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ি এলাকার খাইরুল ইসলামের মেয়ে স্বর্ণা বেগমের সাড়ে তিন বছর আগে প্রেমের সূত্র ধরে বিয়ে হয়। শাকিল হোসেন ইজিবাইক চালানোর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা করতেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শাকিল প্রায়ই স্ত্রী স্বর্ণা বেগমকে মারধর করতেন। রোববার সন্ধ্যার আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়াও হয়। এ সময় শাকিল ঘর থেকে বের হয়ে চলে যান। পরে শাকিল বাড়িতে ফিরে স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত ১২টার দিকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

নিহতের ঘরের দেয়ালে লেখা ছিল, ‘আজ থেকে এ গল্প শেষ। আমি অভাগী মা। আমার সন্তানদের নিজে মারছি। সন্তানদের পুলিশের কাছে দিয়েন না। লাশ পলাশবাড়িতে মাটি দেন। শাকিল যেন না ছোঁয়। বাবা-মা সরি। আই লাভ ইউ।’ লেখাটির সঙ্গে ভালোবাসার চিহ্নও ছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শাকিল প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন। স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যার পর তিনি আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছেন বলে দাবি তাদের।

এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর বাবা খাইরুল ইসলাম চিরিরবন্দর থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন।

সোমবার সকাল থেকে দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ওসি মোহাম্মদ আলমগীরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাকিলসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা তদন্ত কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছি। তদন্তের স্বার্থে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না।

প্রতিনিধি/এলএ