Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সাগর নিহত, দালালের প্রলোভনের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি

১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম

রাশিয়ায় মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা বেতনে বেকারিতে কাজ করতেন কুমিল্লার চান্দিনার মো. সাগর (২৪)। এক বাংলাদেশি দালালের প্রলোভনে পড়ে সেই চাকরি ছেড়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। পরিবারের দাবি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যোগ দেওয়ার পর সাগরের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। শনিবার রাশিয়ায় থাকা তার এক বন্ধুর খুদেবার্তায় সাগরের মৃত্যুর খবর পায় পরিবার। তবে তার মৃত্যুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি স্বজনেরা।

সাগর চান্দিনা পৌরসভার ছায়কোট এলাকার কবির হোসেনের ছেলে। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তার মৃত্যুর খবর শোনার পর মা মূর্ছা যান। পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।

পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিম্নবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা সাগর প্রাথমিকের গণ্ডিও পেরোতে পারেননি। কিশোর বয়স থেকেই রিকশা-ভ্যান চালিয়ে পরিবারের আর্থিক সংকটে সহায়তা করতেন। উপজেলা সদরের একটি রড-সিমেন্টের দোকানের পণ্য ভ্যানে বহন করার সুবাদে ওই দোকানের এক ব্যবস্থাপকের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পরে ওই ব্যবস্থাপক চাকরি ছেড়ে বিদেশে গেলেও তাদের যোগাযোগ ছিল। দেশে ফিরে তিনি আবারও একই দোকানে চাকরি নেন। বন্ধুত্বের সুবাদে সাগরকে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেন তিনি। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করে রাশিয়ায় যান সাগর। সেখানে একটি বেকারিতে কাজ শুরু করেন। মাসে তার আয় ছিল প্রায় ৭০ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন

২০২৩ সালের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড হয় নজরুলের, সৌদি কারাগারে ছিলেন তিন বছর

পরিবারের ভাষ্য, রাশিয়ায় অবস্থানকালে এক বাংলাদেশি দালালের সঙ্গে পরিচয় হয় সাগরের। ওই ব্যক্তি তাকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে চাকরির প্রস্তাব দেন এবং এককালীন ৩০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলেন। দালালের প্রলোভনে পড়ে চলতি বছরের মে মাসে বেকারির চাকরি ছেড়ে দেন সাগর। পরে তাকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যুক্ত করা হয় বলে দাবি স্বজনদের।

সাগরের চাচা আব্দুল আওয়াল বলেন, “সাগর যখন বেকারির চাকরি ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার কথা জানায়, তখন তাকে বারণ করেছিলাম। সে লেখাপড়া জানে না। বিদেশের সেনাবাহিনীতে কীভাবে চাকরি করবে, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ ছিল। কিন্তু দালাল তাকে ভুল বুঝিয়ে যুদ্ধে নিয়ে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধে যাওয়ার আগে সাগর তার অ্যাকাউন্টে তিন লাখ টাকা পাঠিয়েছিল। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। শনিবার তার এক বন্ধু মেসেজ দিয়ে মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। রাতে বিস্তারিত জানাবে বললেও রোববার রাত ৯টা পর্যন্ত আর ফোন করেনি। আমরাও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না।”

সাগরের বাবা কবির হোসেন বলেন, “সবজির ব্যবসা করেছি। দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে অসুস্থ। অনেক ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছি। চার-পাঁচ মাস ধরে ছেলের সঙ্গে কথাও বলতে পারিনি। এখন শুনি, আমার ছেলে আর নেই।” এ কথা বলতে গিয়ে বাগরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি।

এ বিষয়ে চান্দিনার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

প্রতিনিধি/এসএস