জেলা প্রতিনিধি
১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
দক্ষিণাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মাল্টা চাষ। অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির কারণে পিরোজপুরের অনেক কৃষকই গড়ে তুলছেন মাল্টার বাগান। তাদের একজন পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের পোরগোলা গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা নাসির হাওলাদার (৪৪)। বাওকুল চাষ দিয়ে শুরু করে বর্তমানে মাল্টা চাষে সফলতা পেয়েছেন তিনি। নিজের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি তার খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে স্থানীয় শ্রমিকদের। এবার মাল্টা চাষের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় নতুন সম্ভাবনা হিসেবে স্ট্রবেরি চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
নাসির হাওলাদারের কৃষিযাত্রা শুরু ২০০৯ সালে। ১৯৯৯ সালে মাধ্যমিক পাসের পর তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি নেন। তবে চাকরির পাশাপাশি নিজের জমিতে কিছু করার স্বপ্ন ছিল তার। ২০০৯ সালে গণমাধ্যমে এক কৃষকের বাওকুল চাষের প্রতিবেদন দেখে অনুপ্রাণিত হন তিনি। এরপর চাকরি ছেড়ে বাওকুল চাষ শুরু করেন।
প্রথম উদ্যোগেই সাফল্য পাওয়ায় আত্মবিশ্বাস বাড়ে নাসিরের। বাওকুল চাষ শুরুর চার-পাঁচ বছর পর তিনি মনোযোগ দেন ‘বারি মাল্টা-১’ জাতের মাল্টা চাষে। মাত্র এক বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা বাগানটি এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বিঘায়। তার কৃষি প্রকল্পের নাম ‘হাওলাদার কৃষি খামার’।

বর্তমানে নাসিরের সমন্বিত কৃষি খামারের আয়তন প্রায় ২০ বিঘা। মাল্টার পাশাপাশি তিন বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করছেন তিনি। এ ছাড়া চাষ করছেন বিভিন্ন মৌসুমি শাকসবজি। খামারে নিয়মিত কাজ করেন আট থেকে ১০ জন শ্রমিক।
খামারের এক শ্রমিক বলেন, “নাসির ভাইয়ের বাগানে কাজ করে যে আয় হয়, তা দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালোভাবে দিন কাটাতে পারছি।”
নাসিরের সাফল্য দেখে স্থানীয় অনেক তরুণ ও কৃষক মাল্টা চাষ এবং সমন্বিত কৃষির প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন।
দীর্ঘ ১২ বছর ধরে মাল্টা চাষের সঙ্গে যুক্ত নাসির হাওলাদার জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ২০ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রির আশা করছেন তিনি।

মাল্টা চাষে সাফল্য পেলেও নতুন ফসল নিয়ে ভাবছেন এই উদ্যোক্তা। নাসির বলেন, “মাল্টায় সফলতা পাওয়ার পর নতুন ফসল নিয়ে ভাবছি। আগামী মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে স্ট্রবেরি চাষের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি।”
পিরোজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রতিবছর মাল্টা চাষের পরিধি বাড়ছে। অধিদফতরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর পিরোজপুরে মাল্টা চাষ বেড়েছে। বর্তমানে জেলায় প্রায় দেড় হাজার কৃষক সরাসরি মাল্টা চাষের সঙ্গে যুক্ত। প্রতি মৌসুমে জেলা থেকে প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকার মাল্টা বিক্রি হয়, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় কৃষকদের মতে, পিরোজপুরে মাল্টা চাষের সম্ভাবনাকে টেকসই করতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া, বাজারজাতকরণ সহজ করা এবং সার ও কীটনাশকের ভেজাল রোধে কার্যকর নজরদারি জরুরি।
এ ছাড়া জেলায় একটি আধুনিক হিমাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, যথাযথ সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে ফলের অপচয় কমানো, কৃষকদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা এবং মাল্টা চাষের সম্প্রসারণে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
প্রতিনিধি/এসএস