জেলা প্রতিনিধি
১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম
কুমিল্লায় শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে পূজামণ্ডপগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। আলোকসজ্জা ও নানা নান্দনিক সাজে সেজেছে মণ্ডপগুলো। এ বছর কুমিল্লা জেলার ১৮টি উপজেলায় ৮৬০টি এবং কুমিল্লা মহানগরে ১৩১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর জেলায় ৪২টি পূজামণ্ডপ বেড়েছে।
দুর্গোৎসব ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জেলা পুলিশ, এসআরবি সিপিসি-১১-এর দুটি দল, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে জেলার পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে দর্শনার্থীদের বিশেষ নজর কেড়েছে লালমাই উপজেলার একটি মণ্ডপের ব্যতিক্রমী আয়োজন। সেখানে ২৫ কেজি ধান দিয়ে সাজানো হয়েছে ছয়টি প্রতিমা। এ আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে আয়োজকদের সময় লেগেছে প্রায় ছয় মাস।

উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর গৌর নিতাই সেবাশ্রম পূজামণ্ডপে ত্রিনয়নী যুব সংঘের উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে প্রতিমাগুলো। প্রচলিত প্রতিমার সাজের বাইরে এ শিল্পকর্মে তুলে ধরা হয়েছে বাংলার কৃষি ও গ্রামীণ ঐতিহ্য।
প্রথমে মাটি দিয়ে প্রতিমার মূল অবয়ব তৈরি করা হয়। এরপর কয়েক ধাপে শরীরের বিভিন্ন অংশে বসানো হয় পাকা ধান। সোনালি ধানের আবরণে প্রতিমাগুলো পেয়েছে ভিন্নধর্মী রূপ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সোনালি সাজে সেজেছেন দেবী দুর্গা।
প্রতিমা তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন শিল্পী সঞ্জয় পাল ও তার দল। দীর্ঘ প্রস্তুতি, ধৈর্য ও নিপুণ হাতের কাজের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে প্রতিমাগুলো। শিল্পীদের পাশাপাশি এ কাজে সহযোগিতা করেছেন সংগঠনের সদস্যরাও।

আয়োজকেরা জানান, স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির সঙ্গে কৃষি নিবিড়ভাবে জড়িত। কৃষকের শ্রমে উৎপাদিত ফসলের প্রতি সম্মান জানানো এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যকে উৎসবের আয়োজনে তুলে ধরতেই তাদের এ উদ্যোগ।
আয়োজকদের দাবি, সারা দেশে প্রথমবারের মতো ধান দিয়ে দুর্গাপ্রতিমা সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। ব্যতিক্রমী এ আয়োজন দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন লালমাইয়ের ওই পূজামণ্ডপে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা আদালতের আইনজীবী তাপস চন্দ্র সরকার বলেন, লালমাই উপজেলায় ২৫ কেজি ধানের শিষ দিয়ে সাজানো প্রতিমাগুলো দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পূজা উপলক্ষে অনেকে সেখানে প্রতিমা দেখতে যাচ্ছেন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।

সোমবার সকালে কুমিল্লা মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অচিন্ত্য দাস টিটু বলেন, ‘ধান দিয়ে প্রতিমা সাজানো নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। সাধারণত খড় ও মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরি করা হয়। সেখানে ২৫ কেজি ধান দিয়ে প্রতিমা সাজানো হয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ কুমিল্লার লালমাইয়ে এসব প্রতিমা দেখতে আসছেন। ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে সবাই ভিড় করছেন।’
ধানের শিষে সাজানো প্রতিমার মধ্য দিয়ে কৃষকের শ্রম, বাংলার কৃষি ঐতিহ্য ও প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা তুলে ধরেছেন আয়োজকেরা। ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে গ্রামীণ সংস্কৃতির এ সংযোগ স্থানীয় দুর্গোৎসবে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।
প্রতিনিধি/এসএস