জেলা প্রতিনিধি
১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
শরীয়তপুরে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি গাড়ি নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় যাওয়ার পর গাড়িচালক মো. বাদশা আকনকে তিন নারীসহ আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ এসে চারজনকে থানায় নিয়ে যায়। ওই বাসা থেকে মাদক সেবনের কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে শরীয়তপুর পৌরসভার পাকার মাথা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সভায় যোগ দিতে শরীয়তপুরে আসেন ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাউদ্দীন আইয়ুবী। তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নামিয়ে দিয়ে সরকারি গাড়িটি নিয়ে পাকার মাথা এলাকার ওই ভাড়া বাসায় যান চালক বাদশা আকন।
বাসাটিতে তিন নারী ভাড়া থাকতেন। সেখানে চালকের যাতায়াত নিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা বাসাটিতে গিয়ে বাদশা আকনসহ তিন নারীকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়।
বাসাটির কেয়ারটেকার জানান, বাদশা আকন ওই তিন নারীকে নিজের খালাতো বোন পরিচয় দিয়ে বাসাটি ভাড়া করে দিয়েছিলেন। এরপর থেকে তাকে নিয়মিত ওই বাসায় যাতায়াত করতে দেখা যেত বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত মাসে ওই তিন নারী বাসাটি ভাড়া নেওয়ার পর থেকেই সেখানে বিভিন্ন পুরুষের যাতায়াত শুরু হয়। বাদশা আকনকেও বিভিন্ন সময় ওই বাসায় যাতায়াত করতে দেখা গেছে।
আটক নারীদের একজন দাবি করেন, বাদশা তার ভাই এবং সেই সম্পর্কেই তিনি বাসায় যাতায়াত করতেন।
তার অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন বাসায় ঢুকে তাদের কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তারা ঘরের ভেতরে মাদক সেবনের সরঞ্জাম রেখে পুলিশে খবর দেন।
গাড়িচালক বাদশা আকন বলেন, ওই নারীরা তার আত্মীয় নন; তাদের সঙ্গে আগে থেকে পরিচয় ছিল। নারীরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে একটি বাসা ঠিক করে দেওয়ার কথা বলছিলেন। রোববার সভার কাজে শরীয়তপুরে আসার সুযোগে ইউএনওকে নামিয়ে দিয়ে তিনি ওই বাসায় যান।
বাদশার ভাষ্য, বাসায় পৌঁছানোর পর কয়েকজন এসে দরজায় কড়া নাড়েন। দরজা খোলার পর তারা সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে বলে অভিযোগ করেন। তবে এসব বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
পালং মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই-নিরস্ত্র) আব্দুস শুকুর বলেন, ওই বাসায় তিন নারী ও একজন পুরুষ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং সেখানে নিয়মিত মাদক সেবন করা হয়— এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মাদক সেবনের কিছু সরঞ্জামসহ তিন নারী ও একজন পুরুষকে আটক করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাউদ্দীন আইয়ুবী বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছেন। চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া তার দপ্তর থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এলএ