জেলা প্রতিনিধি
১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
শারদীয় দুর্গোৎসব মানেই ঢাকের বাদ্য, উৎসবের আমেজ আর দেবী দুর্গার আরাধনা। তবে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ১১ বছর বয়সী শিশু মাধুর্য্য রায়ের দুর্গাপূজার আয়োজন যেন একটু আলাদা।
মৃৎশিল্পীর হাতের নিপুণতায় নয়, বরং ছোট্ট দুই হাতের স্পর্শে মাটি আর খড় থেকে প্রাণ পেয়েছে দেবী দুর্গা, গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর প্রতিমা। নিজের হাতে প্রতিমা তৈরি, রঙ করা, সাজসজ্জা থেকে শুরু করে আলোকসজ্জা সবকিছুতেই রয়েছে তার সৃজনশীলতার ছাপ। শিশুটির এমন অসাধারণ প্রতিভা দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হরিবাসরপাড়ায় নিজেদের বসতবাড়িতেই ব্যতিক্রমী এই দুর্গোৎসবের আয়োজন করেছে মাধুর্য্য। শারদীয় উৎসবকে ঘিরে তার এই আয়োজন শুধু পূজার আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং নিজের হাতে শিল্প সৃষ্টির আনন্দ আর দীর্ঘদিনের অনুশীলনে গড়ে ওঠা এক শিশুর সৃজনশীলতার প্রকাশ।
মাটি ও খড় দিয়ে একে একে তৈরি করেছে বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা। এরপর নিজের হাতেই সেগুলোতে রঙ লাগিয়েছে, সাজিয়েছে নানা উপকরণে। পূজামণ্ডপের সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজেও রয়েছে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ। ছোট্ট বয়সে এমন নিখুঁতভাবে প্রতিমা তৈরির চেষ্টা এবং প্রতিটি কাজে তার আন্তরিকতা দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে অল্প পরিসরে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করে মাধুর্য্য। সেই থেকে ধীরে ধীরে বেড়েছে তার আগ্রহ ও দক্ষতা। এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব সামনে রেখে প্রায় ৪০ দিন আগে থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। দীর্ঘ সময় ধরে নিজের হাতে প্রতিমা তৈরি ও সাজানোর কাজ করে সে। পরিবারের সহযোগিতা আর নিজের ইচ্ছাশক্তিতে গড়ে ওঠে ব্যতিক্রমী এই আয়োজন।
মাধুর্য্যের মা গোলাপি রানী বর্মন ও বাবা নিত্যানন্দ রায় মেয়ের এমন প্রতিভায় আনন্দিত। পরিবারের অন্য সদস্যরাও তার কাজে উৎসাহ জোগাচ্ছেন। মামা কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মনসহ স্বজনদের কাছে মাধুর্য্যের এই উদ্যোগ আনন্দ ও গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।
মাধুর্য্যের বাড়িতে তৈরি পূজামণ্ডপ দেখতে আসা দর্শনার্থী যুথি রাণী বলেন, দুর্গাপূজার সময় তারা বিভিন্ন মন্দিরে ঘুরে পূজা দেখেন। তবে এবার ১১ বছরের একটি শিশুর নিজের হাতে তৈরি প্রতিমা ও ব্যতিক্রমী পূজার আয়োজন দেখতে এসেছেন। এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
মাধুর্য্য রায় বলে, আমি বেশ কয়েক বছর ধরে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করছি। প্রতিবছর নিজের হাতেই প্রতিমা বানাই। এবারের প্রতিমাটি তৈরি করতে আমার প্রায় দেড় মাস সময় লেগেছে। আমি নিজেই পূজার আয়োজন করি, এ কাজে মা আমাকে সহযোগিতা করেন।
মাধুর্য্যের মা গোলাপি রানী বর্মন বলেন, ছোটবেলা থেকেই মাটি দিয়ে নানা কিছু তৈরি করতে পছন্দ করত সে। মাটি নাড়াচাড়া করতে করতে প্রথমে ঘোড়া, হাতিসহ বিভিন্ন খেলনা বানাত। একসময় নিজেই দুর্গাপ্রতিমা তৈরি শুরু করে। আমি চাই, তার মনের ইচ্ছা পূরণ হোক। মেয়েকে খুশি রাখতে নিজের সাধ্যমতো সহযোগিতা করি। তার এমন আগ্রহ ও কাজ দেখে আমারও খুব ভালো লাগে।
বীরগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোপাল দেব শর্ম্মা বলেন, মাত্র ১১ বছর বয়সে মাধুর্য্যের এমন সৃজনশীল উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। আগ্রহ, অধ্যবসায় ও নিয়মিত চর্চা থাকলে ছোট বয়সেও যে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখা যায়, তারই উদাহরণ এই শিশু।
প্রতিনিধি/এলএ